বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রা সাফল্যের গল্প। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সীমিত সম্পদ নিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশটি আজ একটি বড় ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। কৃষির অগ্রগতি, তৈরি পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন—সব মিলিয়ে অর্জন কম নয়। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি তার সম্ভাবনার তুলনায় যথেষ্ট দ্রুত এগোতে পারছে?
এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশের সম্ভাবনা বহুমাত্রিক। বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থান, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, শক্তিশালী কৃষিভিত্তি, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর সান্নিধ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সম্ভাবনা নিজে থেকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয় না। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো এবং কার্যকর নীতি ও বাস্তবায়ন।
এই বাস্তবতায় ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যকে শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত বাংলাদেশের উৎপাদন কাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নেয়ার একটি জাতীয় প্রকল্প। অর্থনীতির আকার প্রায় দ্বিগুণ করতে হলে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, শিল্পের পরিধি সম্প্রসারণ করতে হবে, রপ্তানি বহুমুখী করতে হবে, প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অর্থাৎ লক্ষ্য শুধু জিডিপি বাড়ানো নয়—উৎপাদন, আয়, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির একটি নতুন চক্র সৃষ্টি করা।
সফল দেশগুলো যেমন সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। সিঙ্গাপুর তার ভূগোলকে বন্দর, বাণিজ্য ও লজিস্টিকসের শক্তিতে রূপ দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া শ্রমনির্ভর শিল্প থেকে ভারী শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, গাড়ি, ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিতে উঠে এসেছে। মালয়েশিয়া বিদেশি বিনিয়োগকে মূলধনের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের মাধ্যম করেছে। ভিয়েতনাম অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রপ্তানিমুখী শিল্পের মাধ্যমে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
কৃষি থেকে শিল্পে মূল্য সংযোজন করতে হবে কারণ বাংলাদেশের বড় শক্তি শুধু শ্রমশক্তি নয়, কৃষিও। কৃষি উৎপাদন বাড়লেও কৃষিপণ্যকে উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে রূপান্তরের সুযোগ এখনো ব্যাপক। ফল, সবজি, মাছ, দুধ, মাংস, মসলা, আলু, আম ও টমেটোর মতো পণ্য আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করা সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বাড়বে, গ্রামীণ শিল্প গড়ে উঠবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
একই সঙ্গে তৈরি পোশাকের সাফল্যকে ভিত্তি করে চামড়া ও পাদুকা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতে দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে। বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো পোশাকনির্ভর। তাই ভবিষ্যতের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি উৎপাদন নয়, বেশি মূল্য সংযোজনকারী উৎপাদন।
বাংলাদেশের শিল্পায়নের প্রধান বাধাগুলোর একটি হলো বিনিয়োগ পরিবেশের অনিশ্চয়তা। উদ্যোক্তা জানতে চান—বিদ্যুৎ ও গ্যাস কতোটা নির্ভরযোগ্য, করনীতি কতোটা স্থিতিশীল, অনুমোদন কতোটা দ্রুত পাওয়া যাবে, আমদানি-রপ্তানি কতোটা সহজ হবে এবং ব্যবসায়িক বিরোধের নিষ্পত্তি কতোটা দ্রুত হবে।
দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নিয়ন্ত্রক ব্যয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি ও অর্থায়নে সীমিত প্রবেশাধিকার বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। তাই প্রয়োজন কার্যকর ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’—যেখানে জমি, পরিবেশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, কর ও আমদানি-রপ্তানির অনুমোদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। রাষ্ট্রের কাজ হবে উদ্যোক্তার পথে বাধা তৈরি করা নয়; বরং উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।
নিরবচ্ছিন্ন ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের জ্বালানি ছাড়া শিল্পায়ন টেকসই হতে পারে না। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না; শিল্পের দরজায় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস পৌঁছাতে হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন, নতুন কূপ খনন, পুরনো কূপ পুনঃখনন, এলএনজি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণকে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের আওতায় আনতে হবে।
একইভাবে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যতের কারখানায় সাধারণ শ্রমিকের পাশাপাশি প্রয়োজন হবে টেকনিশিয়ান, প্রকৌশলী, ডিজিটাল অপারেটর, মান নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ, ডেটা বিশ্লেষক ও প্রযুক্তিবিদ। তাই শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা, পলিটেকনিক ও বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করে শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রযুক্তিই হবে পরবর্তী প্রতিযোগিতার ভিত্তি। কম মজুরির শ্রমের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিকস, ডিজিটাল উৎপাদন, আধুনিক লজিস্টিকস ও সবুজ প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পকে প্রযুক্তি আপগ্রেডেশন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহায়তা দিতে হবে। ভবিষ্যতের শিল্প প্রতিযোগিতা হবে উৎপাদনশীলতা, মান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর।
বাংলাদেশের শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি চট্টগ্রাম। সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, কর্ণফুলী নদী এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ—সব মিলিয়ে চট্টগ্রামকে শিল্প, বাণিজ্য ও লজিস্টিকসের প্রধান প্রবেশদ্বারে পরিণত করা সম্ভব। আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, কোরিয়ান ইপিজেড, মীরসরাই শিল্পনগর, লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত চট্টগ্রাম শিল্প ও লজিস্টিক করিডোর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন, বন্দরে আমদানি-রপ্তানি, গভীর সমুদ্রবন্দরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং সড়ক-রেলপথে দেশের সঙ্গে সংযোগ—সবকিছুকে একই পরিকল্পনায় আনতে পারলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক শক্তি বহুগুণ বাড়বে। মীরসরাই থেকে আনোয়ারা এবং পতেঙ্গা থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত একটি বিস্তৃত শিল্প ও বাণিজ্যিক বলয় গড়ে উঠলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলও হতে পারে শিল্পায়নের দ্বিতীয় বড় কেন্দ্র। রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, নওগাঁ ও নাটোরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষির শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু কৃষি ও শিল্পের মধ্যে প্রয়োজনীয় মূল্যশৃঙ্খল এখনো গড়ে ওঠেনি। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানির সঙ্গে কৃষিকে যুক্ত করা গেলে উত্তরাঞ্চলে একটি নতুন কৃষি-শিল্প বিপ্লব সম্ভব। পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকাকে শুধু পানি ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিতে নয়, বৃহত্তর কৃষি-অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিল্পায়ন ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে আসবে।
শিল্পায়নের জন্য শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কার্যকর পুঁজিবাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প অর্থায়ন অপরিহার্য। উৎপাদনশীল শিল্পকে সহজ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন দিতে পারলে বিনিয়োগের নতুন প্রবাহ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সীমান্তসহ বহু ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের নীতি হওয়া উচিত—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নয়।
চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়া, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। যে দেশ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, বাজার বা কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে চায়, তার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গভীর করাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির মূল লক্ষ্য। এসব উদ্যোগকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত ‘বাংলাদেশ শিল্পায়ন মডেল’ তৈরি করা প্রয়োজন। এর ভিত্তি হবে ভূগোল, কৃষি, শিল্প, মানবসম্পদ ও বৈশ্বিক বাজারের মধ্যে সংযোগ।
চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী হবে সমুদ্রভিত্তিক শিল্প ও লজিস্টিকসের কেন্দ্র; উত্তরাঞ্চল হবে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র; অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো হবে রপ্তানিমুখী উৎপাদনের কেন্দ্র; আর ঢাকা ও অন্যান্য নগর হবে সেবা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র। এ মডেলে দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনের পাশাপাশি প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে দেশীয় উদ্যোক্তারা স্থানীয় বাজার ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করবেন। বড় শিল্পের চারপাশে ছোট ও মাঝারি শিল্পের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলেই শিল্প অর্থনীতির গভীরতা বাড়বে।
তবে শিল্পায়নের লক্ষ্য শুধু বেশি কারখানা তৈরি করা নয়। অগ্রাধিকার দিতে হবে এমন বিনিয়োগকে, যেখানে উৎপাদনশীলতা, স্থানীয় মূল্য সংযোজন, রপ্তানি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ নতুন শিল্পনীতি হতে হবে—‘বেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি ভালো বিনিয়োগের নীতি।’ বড় বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নীতিগত ধারাবাহিকতা অপরিহার্য। শিল্প, বিনিয়োগ, জ্বালানি, রপ্তানি, অবকাঠামো ও দক্ষতা উন্নয়নের মৌলিক লক্ষ্যগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘জাতীয় শিল্পায়ন সনদ’ তৈরি করা যেতে পারে। সরকার পরিবর্তন হলেও মৌলিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।
সঠিক নীতি, ব্যাপক উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর সুশাসন এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কূটনীতির সমন্বয় ঘটাতে পারলে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি কোনো অলীক স্বপ্ন থাকবে না। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের প্রকৃত সাফল্য শুধু জিডিপি’র একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা স্পর্শে নয়; বরং এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণে, যেখানে তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান থাকবে, উদ্যোক্তার জন্য নিরাপদ ও পূর্বানুমানযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ থাকবে, কৃষক তার উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন। বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ আমাদের সামনে উন্মুক্ত। আজ বিনিয়োগের ভিত্তি যত শক্তিশালী করা যাবে, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের পরিধি যত বিস্তৃত করা যাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ যত গভীর করা যাবে, বাংলাদেশের সমৃদ্ধির দিগন্তও তত দ্রুত প্রসারিত হবে। শিল্পায়নে ব্যাপক ও সঠিক বিনিয়োগই হতে পারে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উত্তরণের সবচেয়ে শক্তিশালী সিঁড়ি।
লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট
[email protected]
