ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলার একটি পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আনন্দ-উৎসব। পাঁচ প্রজন্ম ধরে একটি কন্যাসন্তানের অপেক্ষায় ছিল পরিবারটি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায় পরিবারটি নবজাতককে রাজকন্যার মতো করে বরণ করে নিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের পারলি এলাকার দাহিফালে পরিবারটি হাসপাতাল থেকে মা ও নবজাতক গার্গিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে আয়োজন করে বিশেষ শোভাযাত্রার। ফুল দিয়ে সাজানো একটি রথে করে মা ও মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিল ঢাক-ঢোল ও ঝাঁঝরের বাদ্য।
পরিবারটির এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারাও ভিড় জমান। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কন্যাসন্তানের জন্মের আনন্দ উদযাপন করতেই এই বিশেষ আয়োজন।
এনডিটিভি বলছে, সৌভাগ্যবতী কল্পনা ঋষিকেশ দাহিফালের কোলজুড়ে এসেছে কন্যাসন্তান গার্গি। পরিবারটির দাবি, প্রায় ২০০ বছর ধরে দাহিফালে পরিবারে কোনো কন্যাশিশুর জন্ম হয়নি।
গার্গির দাদা লিম্বাজি দাহিফালে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার আহমেদপুর তালুকের কোলওয়াদি গ্রামের বাসিন্দা লিম্বাজি বলেন, পরিবারে কন্যাসন্তানের আগমন তাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।
তিনি ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, পরিবারে একটি কন্যাসন্তান পাওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের। এত বছর ধরে আমাদের মনে কন্যাসন্তান না থাকার যে আক্ষেপ ছিল, আজ তা পূরণ হয়েছে।
গার্গির দাদি সুরেখা দাহিফালেও নাতনির জন্মে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজ আমাদের ঘরে লক্ষ্মী এসেছে, এতে আমরা ভীষণ খুশি।
গার্গির বাবাও মেয়ের জন্মকে পরিবারের জন্য বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত মানুষ ছেলে সন্তানের জন্য আকাক্সক্ষা করে। কিন্তু কন্যাসন্তান পাওয়ার অনুভূতি ও আনন্দ একেবারেই আলাদা। আমরা আমাদের মেয়েকে ফুলের মতো করে বড় করব।
পরিবারটি জানিয়েছে, শুধু নিজেদের আনন্দ উদযাপন নয়, সমাজের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে এই আয়োজন করা হয়েছে। তাদের মতে, কন্যাসন্তানের জন্ম কোনো দুঃখের বিষয় নয়; বরং এটি আনন্দ, গর্ব ও উদযাপনের উপলক্ষ।
