বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বড় একটি ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘বুকিং ডটকম’। হোটেল, রিসোর্ট, অ্যাপার্টমেন্ট এবং বিমান টিকিট বুকিং করার জন্য বিখ্যাত এই ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত নিরাপত্তা ব্যর্থতার’ অভিযোগ তুলেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘হুইচ?’।
বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটকে ভাড়া দেয়ার জন্য বুকিং ডট কম-এ একটি ভুয়া তালিকা তৈরি করা করা হয়। এ ঘটনায় ‘বুকিং ডটকম-এর বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত নিরাপত্তা ব্যর্থতার’ অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার ‘দ্য গার্ডিয়ান’ প্রকাশিত সংবাদের বরাতে জানা যায়, ‘হুইচ?’ এর গবেষকরা গত ১৮ জুন ‘বুকিং ডটকম’-এ লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে ১ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট নামে একটি ভুয়া সম্পত্তির তালিকা তৈরি করে। এতে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সঠিক ঠিকানা এবং বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ছবি ব্যবহার করা হয়।
তালিকায় বলা হয়, সম্পত্তিটি হাউসেস অব পার্লামেন্ট থেকে মাত্র চার মিনিটের হাঁটার দূরত্বে। পরীক্ষার অংশ হিসেবে ‘হুইচ?’ এর একজন গবেষক ওই সম্পত্তিতে এক সপ্তাহ থাকার জন্য বুকিংয়ের চেষ্টা করেন।
সংস্থাটির দাবি, ‘বুকিং ডটকম’ সেই বুকিংয়ের অর্থ গ্রহণ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটের নামে ভুয়া বাড়ি বুকিং একটি জালিয়াতির কারণে গবেষক বুকিংয়ের অর্থ ফেরত চান। তবে ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় পরেও অর্থ ফেরত দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ‘হুইচ?’।
গবেষকরা ‘বুকিং ডটকম-এ একটি ভুয়া রিভিউও পোস্ট করে। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ বলে বর্ণনা করা হয় এবং ডাউনিং স্ট্রিটের সরকারি বাসভবনে থাকা পোষা বিড়াল ‘ল্যারি’র সঙ্গে সময় কাটানোর কথাও উল্লেখ করা হয়।
এই রিভিউ নিয়ে বুকিং ডটকম জানিয়েছিল, রিভিউটি তাদের মডারেশন দলের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। কিন্তু ‘হুইচ?’ এর দাবি, রিভিউটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়ে যায়।
ভুয়া সম্পত্তির তালিকাটি শেষ পর্যন্ত এটি প্রকাশের প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ২৭ আগস্ট ‘বুকিং ডটকম’ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
‘হুইচ?’-এর সম্পাদক ররি বোল্যান্ড বলেন, ‘বুকিং ডটকম’ এর তথাকথিত অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা যদি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের মতো একটি পরিচিত সরকারি ভবনকে ছুটির আবাসন হিসেবে শনাক্ত করতে না পারে, তাহলে প্রতারকদের পক্ষে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা সহজ হওয়াই স্বাভাবিক।
‘হুইচ?’ তাদের তদন্তের ফলকে “পুরো প্ল্যাটফর্মজুড়ে পদ্ধতিগত নিরাপত্তা ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বৃটেনের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম-কে বিষয়টি তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
