টানা দ্বিতীয় মৌসুম গ্রীষ্মের দলবদলে ট্রান্সফার ফির নতুন রেকর্ড গড়লো ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ক্লাবগুলো। এবারও দলের শক্তি বাড়াতে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করেছে তারা। ইউরোপে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১১টায় শেষ হয় এই পর্বের দলবদল। প্রিমিয়ার লীগের ক্লাবগুলো এবার ফুটবলার কেনায় মোট খরচ করেছে ৩৪৬ কোটি পাউন্ড।
শেষ কয়েক ঘণ্টায় বেশ বড় অঙ্কের কয়েকটি ট্রান্সফার ফির দেখা মেলে। চেলসি থেকে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে সাড়ে ১২ কোটি পাউন্ডে কিনেছে ম্যানচেস্টার সিটি, যা ব্রিটিশ ট্রান্সফার ফির যৌথ রেকর্ড। এদিন এভারটন থেকে সেনেগালের উইঙ্গার ইলিমান এনজাইকেও দলে টেনেছে সিটি, গণমাধ্যমের খবর মতে এজন্য তাদের খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় কোটি পাউন্ড। গত বছরের গ্রীষ্মের দলবদলে প্রিমিয়ার লীগের ২০ ক্লাবের মোট খরচ প্রথমবারের মতো স্পর্শ করে ৩০০ কোটির মাইলফলক। পাঁচ বছর আগে যে অঙ্কটা ছিল কেবল ১১৩ কোটি পাউন্ড।
২০২২’র বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ফার্নান্দেজ ছাড়াও, এবার আরও তিন জনের ট্রান্সফার ফি ১০ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়েছে। নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে সিটি, অ্যাস্টন ভিলা থেকে ইংলিশ উইঙ্গার মরগান রজার্সকে ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে চেলসি এবং পিএসজি থেকে ফরাসি ফরোয়ার্ড বার্ডলে বার্কোলাকে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে লিভারপুল দলে টেনেছে। টটেনহ্যাম হটস্পারও এবার নিজেদের ট্রান্সফার ফির রেকর্ড ভেঙেছে; নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ডে ইতালিয়ান মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালিকে কিনেছে তারা। প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে ক্লাবগুলোর সবচেয়ে বেশি দামে খেলোয়াড় কেনার ১১টির মধ্যে চারটিই এবার দেখা মিললো- ফার্নান্দেজ, অ্যান্ডারসন, রজার্স ও বার্কোলা।
স্কোয়াড পুনর্গঠনে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে ম্যানচেস্টার সিটি, ৪৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। চেলসির খরচ ৩৪ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। টানা দুই মৌসুমে অবনমন অঞ্চলের দুয়ারে থেকে কোনোরকমে বেঁচে যাওয়া টটেনহ্যাম হটস্পার এবার দলের শক্তি বাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করেছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩০ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে তারা। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লীগে উঠে আসা তিন দল ইপ্সউইচ টাউন, কভেন্ট্রি সিটি ও হাল সিটিও প্রতিপক্ষদের শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে দলের শক্তি বাড়িয়েছে। এই তিন দলের মিলিত মোট খরচ ৪০ কোটি পাউন্ড।
