২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন-ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সরকারের কৌশল জানালেন প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন-ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সরকারের কৌশল জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

আগামী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন-ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সরকারের কৌশলের কথা জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের ট্রিলিয়ন-ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সরকারের কৌশল হলো- প্রথমে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অতঃপর বিনিয়োগ ও উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধি, আর্থিক ও রাজস্ব খাত সংস্কার, এবং দীর্ঘমেয়াদে উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতা নির্ভর একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার (টেবিলে উপস্থাপিত) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য বর্তমান সরকারের জাতীয় বাজেট বক্তৃতা ২০২৬-২৭-এ সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই লক্ষ্যকে শুধু জিডিপির আকার বৃদ্ধির লক্ষ্য হিসেবে নয়; বরং সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের সমন্বিত রূপান্তর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের জন্য তিন ধাপের 3R Strategy গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপ হলো Recovery & Stabilization- এটি এক বছর মেয়াদি। এর লক্ষ্য অর্থনীতির অবনতির ধারা রোধ ও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। দ্বিতীয় ধাপ হলো Restoration- সরকারের প্রথম তিন বছরে রাজস্ব ব্যবস্থা, বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ, কৃষি, জ্বালানি ও অবকাঠামোর সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণ করা হবে। তৃতীয় ধাপ Reconstruction for Acceleration-এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর, উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগকে জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে বিনিয়ন্ত্রণকরণ ও ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। BanglaBiz-এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক অনুমোদনের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে এবং ১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য FDI হিট ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার, করপোরেট বন্ড ও বিকল্প দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন অর্থায়নের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার নেওয়া হয়েছে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৮ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশে এবং কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি সহনীয় রাখা, ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়ন, Value for Money, Return on Investment নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনাকে সরকারি বিনিয়োগের মূল নীতি হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ, ডিজিটাল অর্থনীতি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নকে একই রূপান্তর। কৌশলের অংশ করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বিশেষায়িত কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন, সংরক্ষণাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও লজিস্টিকস উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।