পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়াই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে নির্মাণকাজের অভিযোগে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। শুনানি শেষে ওই নির্মাণকাজ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নির্মাণকাজটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং সমুদ্র সৈকতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বেলার আইনজীবী
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর হাসান। সরকারের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবী রিজওয়ানা বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হলেও সেখানে চলমান নির্মাণকাজের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অনুমোদন নেই। একটি থোক ধরনের ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাস্তা, মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কথা উল্লেখ থাকলেও কোন জায়গায় কোন রাস্তা নির্মাণ করা হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
তিনি বলেন, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরও আপত্তি জানিয়েছে। তারা যে কয়েকটি রাস্তা নির্মাণের কথা বলেছিল, তার মধ্যে চলমান রাস্তাটি রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। কারণ ছাড়পত্রে রাস্তার স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি।
আইনজীবী আরও বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইসিএ ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত বিভিন্ন নির্মাণকাজ বাতিল ও নিষিদ্ধ করার নজির রয়েছে। এরপরও সেখানে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়, গত ৭ থেকে ১০ দিন ধরে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি বুলডোজার দিয়ে সমান করার কাজ চলছে। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, বালিয়াড়ি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এ কাজ করা হচ্ছে। পরে জানা যায়, একটি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বালিয়াড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা (JICA) সমর্থিত বলে আদালতকে জানানো হয়।
শুনানিতে সরকারপক্ষের বক্তব্য ছিল, উন্নয়নকাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায় না। তবে রিটের পক্ষে আইনজীবী মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে জাইকা সমর্থিত প্রকল্পের পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ স্থগিতের বিষয়ে হাইকোর্টের আগের আদেশের কথা আদালতের নজরে আনেন। ওই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বন বিভাগের আপত্তি ছিল বলে তিনি জানান।
আইনজীবী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ ধরনের কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। বর্তমান সময়ে আবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সংরক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কাজ শুরু হয়েছে।
হাইকোর্টের রুলে বিদ্যমান আইন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া চলমান নির্মাণকাজ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আট সপ্তাহের জন্য নির্মাণকাজ স্থগিতের আদেশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
২ সেপ্টেম্বর (বুধবার), ২০২৬, ১২ঃ৪৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
