গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে সমস্যা নানামুখী, আপাতত সমাধান আমদানিতে

সহযোগীদের খবর

গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে সমস্যা নানামুখী, আপাতত সমাধান আমদানিতে

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে সমস্যা নানামুখী, আপাতত সমাধান আমদানিতে’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে ৯ বছর ধরে গ্যাসের উৎপাদন কমছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা কঠিন হয়ে গেছে। দামও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাংশ বন্ধ থাকছে। দিনে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিংও করতে হচ্ছে।

এদিকে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের বকেয়া ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সরকারের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে টাকা নেই। বাড়তি দামে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট নানামুখী। অবশ্য এ খাতের বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমাধানও আছে। সরকারকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁরা বলছেন, সাময়িক বাড়তি খরচ করে বিদ্যুৎ দিতে পারলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে অনেক বেশি। পরোক্ষভাবে সরকার লাভবান হবে। সরকারের রাজস্ব বাড়বে। তাই ব্যয় বাড়লেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা উচিত।

দেশে আগামী নভেম্বর থেকে তাপমাত্রা কমবে। তখন বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। ফলে দুই মাস (সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) নিয়ে বেশি চিন্তা। এ সময়ে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালিয়ে গ্যাসের ওপর চাপ কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, বিদেশি গ্যাসের এখন যে দর, তার বদলে তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচই কম।

বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পরামর্শ দিয়ে বলছেন, এ বিষয়ে পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।

এদিকে সরকারও তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরও বিদ্যুৎ নেওয়ার চিন্তা করছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, তেলচালিত কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিয়মিত বিল দিয়ে তেল আমদানি করতে বলা হচ্ছে। তেল পেতেও একটু সমস্যা হচ্ছে। সবারই নজর এখন সিঙ্গাপুরের বাজারে।

গ্যাস আমদানি কমেছে

সংকটের মূল কারণ আমদানিনির্ভরতা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে গ্যাস উত্তোলনে জোর না দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি শুরু করা হয়। এখন সরবরাহ পাওয়া কঠিন। দামও চড়া।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি সরবরাহ তদারক করে পেট্রোবাংলা। এ সংস্থার অধীনে থাকা কোম্পানি আরপিজিসিএল আমদানির কাজটি করে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, গত বছরের প্রথম ৮ মাসে ৭১টি এলএনজি কার্গো আনা হয়েছে, এবার এসেছে ৬৮টি। এর মধ্যে গত জুলাই-আগস্টে এসেছে ১৫টি। গত বছর একই সময়ে এসেছে ২১টি।

বিগত দুই মাসে ৬টি কার্গো কম আসায় এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। যদিও এর মধ্যে অগ্নিদুর্ঘটনায় একটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১৬ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে তিনটি কার্গোর চাহিদা কমে গেছে।

সংকট বাড়িয়েছে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) অনভিজ্ঞ কোম্পানিকে ক্রয়াদেশ দেওয়া। তারা আগস্টে চারটি কার্গো সরবরাহের কথা থাকলেও দিতে পারেনি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে গরম তেমন কমবে না। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তি থাকবে। তাই এ দুই মাসে অন্তত ২০টি কার্গো আমদানি করতে হবে। না হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট কাটবে না।

দুটি উৎস থেকে দেশে এলএনজি আমদানি করা হয়। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে এবং চাহিদা বুঝে খোলাবাজার থেকে কিনে। আমদানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর চুক্তি থেকে এলএনজি আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার, ওমান ও মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের সঙ্গে চুক্তি আছে বাংলাদেশের। ওমান ও এক্সিলারেট কাতার থেকে নিয়েই বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করে। এলএনজির বড় উৎস কাতার থেকে সরবরাহ কমায় বিশ্বে দামও বেড়েছে।

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামলানো হয়েছে। গত ২১ জুলাই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়। গত ৭ আগস্ট টার্মিনাল থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু হয়। এরপর ১৫ আগস্ট পুরো সরবরাহের জন্য টার্মিনালটি তৈরি হলেও পর্যাপ্ত কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়েনি।

পেট্রোবাংলার দুজন কর্মকর্তা বলেন, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮টি নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি আসবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে। আর বাকি ৪টি দরপত্রের মাধ্যমে খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম প্রায় ২২ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৬২ ডলার পর্যন্ত আছে। বাকি দুটি কার্গো কিনতে ডাকা দরপত্রের একটিতে গত সোমবার ২৬ ডলারের দর এসেছে, আরেকটিতে কোনো দর আসেনি। তাই ওই দুটি কার্গোর জন্য গতকাল আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তেলের বিদ্যুতে খরচ কত

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে। লোডশেডিং কোনো কোনো দিন সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন করা যাচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। দেশে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কয়লা থেকে। বকেয়া বিলের কারণে কয়লা আমদানি ব্যাহত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি ত্রুটি।

দেশে ৮টি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কম। পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১২ সক্ষমতার একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১২ সক্ষমতার একটি ইউনিট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে গেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি আছে। এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট।

৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির। দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে তারা।

ব্যয়বহুল বলে জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্র থেকে রাতের বেলা কয়েক ঘণ্টা সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে এটি দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে। উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তাই তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ আছে।

পিডিবি সূত্র বলছে, এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে কম খরচ হয় গ্যাস থেকে। তবে বর্তমান দাম বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি খরচ হয় এলএনজি থেকে। ফার্নেস তেলচালিত কেন্দ্র থেকে এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ২১ টাকা ৫১ পয়সা। আর এলএনজির দাম ২৪ ডলার ধরা হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবে ২৩ টাকার বেশি। তবে এলএনজি আমদানিতে শুল্ক আছে সাড়ে ৯ শতাংশ। আর ফার্নেস তেল আমদানিতে শুল্ক-কর আছে সাড়ে ২৬ শতাংশ। তেলের মতো একই শুল্ক থাকলে এলএনজি থেকে উৎপাদন খরচ হতো ২৬ টাকার বেশি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকেরা বলছেন, তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করলে শুল্ক হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা হবে মাসে প্রায় ১ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা ও ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। সরকার চাইলে আপাতত ফার্নেস তেলের শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারে। তাহলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ১৭ টাকায় নেমে আসবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া শোধেও ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে তারা তেল আমদানি করতে পারে।

তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় ব্যবহার করলে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন বেড়ে যাবে। কয়লা থেকেও ১ হাজার মেগাওয়াট বাড়ানোর সুযোগ আছে।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নভেম্বর থেকে শীত শুরু হলে সরকার অন্তত চার মাস স্বস্তিতে থাকবে। কিন্তু পরের গ্রীষ্মের জন্য এ সময়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। মধ্যমেয়াদে সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানী এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে জোর দিতে হবে।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, এলএনজির দাম অনেক বেশি, কেনাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবু কিনতে হবে। তবে আগের মতো সরবরাহ করা সম্ভব না–ও হতে পারে, কিছু ঘাটতি থাকবে। অগ্রাধিকার চাহিদা বুঝে সরবরাহ করতে হবে। আর তেল ও কয়লাচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘২৪ লাখের স্বস্তি, বোঝা ১৮ কোটির কাঁধে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে পুড়ছে দেশের সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে কয়েক দফা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে চাপ আরও বেড়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনসাধারণের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। ফলে অনেকের সংসারে মাস চালানোর বাজেট এখন সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০-১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। সংগত কারণে প্রশ্ন উঠেছে-তাহলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বেতন বা আয় বাড়াবে কে। বাস্তবিক অর্থে এ প্রশ্নের উত্তর যখন মিলছে না, তখন ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ক্ষোভ-হতাশা তৈরি হয়েছে।

তারা বলছেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে সরকারি সুবিধার আওতায় চাকরিজীবীর সংখ্যা মাত্র ২৪ লাখ (বেসামরিক ও সামরিক)। অর্থাৎ বড় অংশের মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব তথা মূল্যস্ফীতির বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাঁধে এসে পড়বে। বাজার অর্থনীতিতে বিক্রেতার কাছে ক্রেতাদের আর্থিক সামর্থ্য থাকা না থাকা গুরুত্বহীন। বাজারে সবার পরিচয় ক্রেতা। তাকে বাজারমূল্য দিয়েই পণ্য কিনতে হয়। ফলে সৃষ্টি হওয়া এই অসম বাজার প্রতিযোগিতায় নিম্ন আয় ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের এখন আরও হাঁসফাঁস অবস্থা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈষম্য ও সম্ভাব্য সংকটের কথা সরকারের অজানা নয়। ফলে সরকারকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতেই হবে। নতুন জাতীয় পে-স্কেলের প্রভাব নির্ঘাত বাজারে পড়বে। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দামসহ জীবনযাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রে খরচ বাড়বে। তাহলে ২৪ লাখের বাইরে থাকা কোটি কোটি মানুষের জীবনে স্বস্তি আনার দায় ও দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বাড়বে। কারণ দেশের সাড়ে ১৪ লাখের (বেসামরিক) বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়লে শুধু মূল্যস্ফীতিই নয়, বৈষম্য, দারিদ্র্য ও তারল্য সংকটসহ আর্থসামাজিক নানা ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন, সরকারের সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির এই সুখবরের মধ্যে বাজারের উত্তাপ আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি সরু চাল কিনতে ক্রেতার ৮৫-৯০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম গিয়ে ঠেকেছে ২০০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ১৭০-১৮০ টাকা ছিল। আর খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষের অনেকে এখন সাধ ও সাধ্যের মধ্যে মাছ-মাংস পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। এক ডজন ডিম কিনতেও ক্রেতার ১৫০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা মাসের ব্যবধানে ৩০ টাকা বেশি। নতুন করে কেজিতে চিনির দাম ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫০-১৬০ টাকায়। ভোজ্যতেল কিনতে গুনতে হচ্ছে লিটারে ২০০ টাকা। সবজির দামেও আগুন। সবজি কিনতে গিয়ে মাছের টাকা থাকছে না। এর ফলে নিম্নবিত্ত ছাড়াও মধ্যবিত্তদেরও নাভিশ্বাস বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার যারা বাজারে গিয়েছেন, তারা নানাভাবে হতাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য বড় কোনো স্বস্তি আসেনি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ এখনো কাটেনি। এ কারণে সীমিত আয়ের লোকজনকে বেশি ব্যয়ে বাজেট কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রমতে, অর্থবছরের শেষ মাস জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। তার আগের মাস জুনে ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশের অর্থ হলো-২০২৫ সালের জুলাই মাসে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে, সেই একই পণ্য ২০২৬ সালের জুলাই মাসে কিনতে ব্যয় হয়েছে ১০৮ টাকা ৩২ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে আট টাকা ৩২ পয়সা।

এদিকে সরকার ঘোষিত সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোতে প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে। জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা দেওয়া শুরু হবে।

মঙ্গলবার সকালে মালিবাগ কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি মাসে ৩৬ হাজার টাকা বেতন পাই। তা দিয়ে পরিবারের পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কোনোমতে খেয়েপরে বেঁচে থাকতে নিজের সঙ্গে লড়াই করছি। সবকিছু অল্প পরিমাণে কিনতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছি। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে। তারা স্বচ্ছন্দে দিন কাটালেও আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি জানান, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া পরিবহণ ভাড়া থেকে শুরু করে চিকিৎসাব্যয়, ছেলেমেয়ের শিক্ষা খরচও বেড়েছে। কিন্তু আমার বেতন গত পাঁচ বছরে একই রয়েছে। আমি কী থেকে কী করব তা ভাবতেই চোখে পানি চলে আসে।

কালের কণ্ঠ

‘লাখ কোটি টাকার খোঁজে সরকার’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অবশেষে নতুন পে স্কেল অনুমোদন দিল সরকার। এখন চ্যালেঞ্জ অর্থসংস্থানের। মূল্যস্ফীতির কঠিন সময়ে এটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তি হয়ে এলেও রাষ্ট্রের সামনে তৈরি হয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক দায়। নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কিভাবে সরকার প্রতিবছর এই বিপুল অঙ্কের টাকার সংস্থান করবে? কারণ ঢাকার মেট্রো রেল-৬ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের এক বছরের অতিরিক্ত ব্যয় একটি এমআরটি-৬ প্রকল্পের ব্যয়ের তিন গুণেরও বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাই শুধু বেতনকাঠামো পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি এখন সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, ঋণনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে সরকারকে মূলত তিনটি পথের মধ্যে ভারসাম্য করতে হবে—রাজস্ব বাড়ানো, অন্য খাতের ব্যয় কমানো এবং ঋণ নেওয়া। কিন্তু তিন পথের প্রতিটিতেই রয়েছে ঝুঁকি।

এক বছরে তিন এমআরটি-৬-এর বেশি: নতুন পে স্কেলের পুরো কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

সরকারের হিসাবে এর সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী।

এই ব্যয়ের সমান্তরালে সুবিধাভোগী প্রকল্প হিসেবে ঢাকার এমআরটি-৬ প্রকল্পের নাম সামনে এনেছেন বিশ্লেষকরা। এর সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। হিসাব করলে নতুন পে স্কেলের এক বছরের বাড়তি ব্যয় এমআরটি-৬-এর মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৩.২ গুণ। অর্থনীতির আকার বোঝাতে এই তুলনা গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বড় মেগাপ্রকল্প নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ কয়েক বছর ধরে ব্যয় করা হয়, নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণের কয়েক গুণ অর্থ প্রতিবছর স্থায়ী ব্যয় হিসেবে বহন করতে হবে।

এটি একবারের প্রকল্প ব্যয় নয়। বেতনকাঠামো কার্যকর হলে ভবিষ্যতের বাজেটেও এর প্রভাব থাকবে। বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধার ব্যয়ও সময়ের সঙ্গে বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন পে স্কেল ঘোষণা করতে গিয়ে সরকারকে বছরে অতিরিক্ত এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার স্থায়ী ব্যয়ের দায় নিতে হয়েছে। এই অর্থের পরিমাণ একটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয়ের তুলনায়ও অনেক বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঢাকার এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় দিয়ে তিনটিরও বেশি মেট্রো রেল প্রকল্পের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব।

তাঁর মতে, সরকার মূলত ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলেছে। কিন্তু ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করাই এই বিশাল ব্যয়ের চাপ মোকাবেলার একমাত্র উদ্যোগ হতে পারে না। সরকারের অন্যান্য খাতে ব্যয় সাশ্রয় করে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কতটা কমানো সম্ভব হবে, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সঙ্গে তাঁদের সেবার মান কিভাবে বাড়বে, তার কোনো সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে কি না? প্রজাতন্ত্রের অর্থ থেকেই এই অতিরিক্ত বেতন-ভাতা দেওয়া হবে। ফলে এর বিনিময়ে জনগণকে আরো কার্যকর, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি সেবার মানোন্নয়নে কী ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বেতন কাঠামো: সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতে বৃদ্ধি নিয়ে সংশয়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। নতুন পে স্কেল শুধু সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়াবে, কিন্তু তা দেশের পুরো শ্রমবাজারের মজুরি কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে। কারণ এতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট, উৎপাদন, বিনিয়োগে স্থবিরতাসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের পক্ষে বেতন বাড়ানো কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়। তার প্রভাব নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিপিডির করা গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার পর বেসরকারি খাতের উচ্চ বেতনভোগীদের একটি অংশ নিজেদের বেতন সমন্বয় করতে পেরেছিল। কিন্তু কম বেতন পাওয়া কর্মীরা সেই সুযোগ পাননি। ফলে সরকারি-বেসরকারি কর্মীদের বেতন ব্যবধানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ভেতরেও বৈষম্যের চাপ তৈরি হয়।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে সব ভাতা কার্যকর হলে বছরে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রায় অর্ধেক।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সরকারকে বাড়তি রাজস্ব আয়ের জন্য মূলত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। সেই চাপও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ওপর পড়বে।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের একটি অংশ অবশ্য বলছে, বেসরকারি খাতে কোনো একক বেতন কাঠামো নেই। সরকারি পে স্কেলের সঙ্গে বেসরকারি খাতের মজুরি পুনর্গঠনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বেসরকারি খাতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মিত বেতন বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি। আবার কোথাও হয়তো দীর্ঘদিন বাড়েনি। একটি মিশ্র চিত্র রয়েছে।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান সমকালকে বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক। এর ফলে সৎ কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে। তাঁর মতে, ১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ানোর কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে জনগণের করের টাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ঘুষ-দুর্নীতি কমা উচিত।

ফজলে শামীম এহসান বলেন, গত ১১ বছরে তৈরি পোশাক খাতে বেতন ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যান্য বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন হারে বেড়েছে। এ কারণে সরকারি পে স্কেলের সঙ্গে বেসরকারি খাতে বেতন পুনর্গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

২০১৫ সালের পর করা ওই গবেষণায় সিপিডি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপের ডেটা ব্যবহার করেছিল। গবেষণা অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরি তুলনামূলক আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে বেসরকারি খাত দুধরনের চাপে পড়ে। একদিকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে কর্মীদের বেতন বাড়ানোর দাবি ওঠে। অন্যদিকে সরকারি চাকরির তুলনায় বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবধান বেশি হওয়ায় দক্ষ কর্মী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিগত সরকারি বেতন কাঠামোর অভিজ্ঞতা বলছে, সরকারি চাকরির সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতা তাই শুধু বেতনের নয়; পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটি, চিকিৎসা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধাও এর অংশ। সিপিডির গবেষণায় দেখা যায়, এসব বেতনবহির্ভূত সুবিধার আওতাও সরকারি খাতে তুলনামূলক বেশি। এবারের বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের পেনশনও বাড়ানো হয়েছে।

ইত্তেফাক

‘পালটা চাপ সৃষ্টির কৌশল সরকারি ও বিরোধী দলের’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার ইস্যুতে একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। কৌশলের অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটিতে নাম না দিলে বিরোধী দলকে আর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দিতে রাজি নয় সরকারি দল। বিরোধীদলের দাবি, জুলাই সনদ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলোর ২৬ শতাংশের সভাপতি পদ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অন্যদিকে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন দাবির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের চলমান সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে সংসদে সরব থাকার কৌশল নিয়েছে বিরোধী দল। পাশাপাশি রাজপথেও কর্মসূচি দিয়ে সরকারি দলকে চাপে রাখতে চায় তারা। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাজধানীতে পদযাত্রা করে সংসদের স্পিকারকে স্মারকলিপি দিয়েছে বিরোধী দল। এছাড়া, আগামী শনিবার চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের মধ্য দিয়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিভাগীয় পর্যায়ে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

জুলাই সনদ অনুসারে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে গত রবিবার সংসদে বিতর্ক হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে। বিতর্ক হলেও বিরোধী দলকে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে কি না—সে প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি। দুই পক্ষের পালটা বক্তব্যের পর ঐ সময়ে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ‘ক্লোজড ডোর’ বা রুদ্ধদ্বার আলোচনারও পরামর্শ দেন তিনি।

রবিবার সংসদের বিতর্কে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধীদল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদেরকে সংসদীয় কমিটির সভাপতির আরো পদ দিতে আপত্তি নেই। তবে, এজন্য বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিতে হবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে বিভিন্ন দাবি তুললেও সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করাকে বিপরীতমুখী অবস্থান বলে মন্তব্য করেছে সরকারি দল। বিতর্কে বিরোধীদল জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে তারা প্রতিনিধি দেবে না।

জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক স্থায়ী কমিটি রয়েছে ১১টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ৩৯টি। চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ১৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এই কমিটির সভাপতি।

সভাপতির পদের বিষয়ে জুলাই সনদে কী আছে

বিদ্যমান সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিরোধীদলকে এক বা একাধিক সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার সংসদীয় রেওয়াজ রয়েছে। ‘রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল’ হিসেবে সই করা জুলাই সনদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে—সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। এছাড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করার প্রস্তাবও রয়েছে জুলাই সনদে।

সংসদে বিরোধী দলের আসনের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ। সেই হিসাবে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি কমিটির মধ্যে প্রায় ১০টির সভাপতি পদ তাদের পাওয়ার কথা। এর সঙ্গে সনদে সরাসরি উল্লেখ করা চারটি কমিটি যোগ করলে বিরোধী দলের মোট ১৪টি কমিটির সভাপতির পদ পাওয়ার কথা। তবে, জুলাই সনদ অনুযায়ী এখনো সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় এবং সনদে থাকা এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যুক্ত না হওয়ার কারণে বিরোধী দলকে সভাপতির এসব পদ দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি।

প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলকে ওই কমিটির জন্য পাঁচ জনের নাম দিতে বলা হয়েছিল; কিন্তু নাম দেয়নি। বিরোধী দল ঐ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সংশোধন নয়, তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘নতুন মাত্রায় ঢাকা ও ওয়াশিংটন সম্পর্ক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শিগগিরই বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না এবং তিনি বিষয়টি ভুলবেন না।

৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে তার নেতৃত্বে দেশের ‘খুব উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসাও জানান তিনি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি আসে বৈঠক প্রসঙ্গে- ট্রাম্প বলেন, ‘খুব বেশি দূরের ভবিষ্যতে’ তিনি তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন।

এ চিঠিকে কেবল সৌজন্যবার্তা হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে বোয়িং ক্রয়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য কাঠামো, রোহিঙ্গা সঙ্কট, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব- সবকিছুকে একসাথে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের বার্তাটি ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে।

বোয়িং চুক্তি শুধু বিমান কেনা নয়

ট্রাম্পের চিঠিতে বোয়িংয়ের প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ‘বোয়িং তোমাকে হতাশ করবে না, এবং আমি ভুলব না’- এই বক্তব্যের মধ্যে বাণিজ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য বোয়িং কেনা নিছক রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বহর সম্প্রসারণের বিষয় নয়। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন পণ্য কেনা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করার প্রশ্নও জড়িত। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অর্থনৈতিক নীতিতে বিদেশী অংশীদারদের কাছ থেকে মার্কিন পণ্য কেনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

ফলে বাংলাদেশের বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের কাছে একটি ইতিবাচক অর্থনৈতিক সঙ্কেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিঠিতে বিষয়টির উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, সিদ্ধান্তটি তার নজরেও এসেছে।

শুল্কযুদ্ধ থেকে সমঝোতায় ঢাকা-ওয়াশিংটন

তারেক রহমানের সাথে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি হলো দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতা। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনে। একই সাথে নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশী পণ্যকে শূন্য শতাংশ শুল্কসুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও অন্যান্য ইনপুট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরী পোশাকের জন্য শূন্য শুল্কের ব্যবস্থার কথা বলা হয়।

চুক্তির বিনিময়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে এবং বিভিন্ন অশুল্ক বাধা কমাতে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, কৃষিপণ্য, আইসিটি পণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমদানি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সহজ করার বিষয় রয়েছে।

অর্থাৎ, দুই দেশের সম্পর্ক এখন শুধু তৈরী পোশাক রফতানি বা সাহায্যনির্ভর সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ক্রমেই ‘পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থের’ কাঠামোয় প্রবেশ করছে।

তবে শুল্কের চাপ পুরোপুরি কাটেনি

এখানেই রয়েছে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের ওপর নতুন সেকশন ৩০১ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও টেক্সটাইল ইনপুট আমদানির সাথে সম্পর্কিত শুল্কমুক্ত কোটাব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

ফলে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক উন্নত হলেও বাংলাদেশের রফতানিকারকদের সামনে শুল্ক ও বাজার-সুবিধার অনিশ্চয়তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত তৈরী পোশাক। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে শুল্ক, কাঁচামাল, শ্রমমান, কমপ্লায়েন্স এবং উৎপাদন ব্যয়- সবকিছুতেই নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

এ অবস্থায় তারেক-ট্রাম্প বৈঠক হলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে মার্কিন বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল শুল্কসুবিধা।

বণিক বার্তা

‘দেশে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, খাতভিত্তিক সংকটের সঙ্গে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতেও একই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাভার-ধামরাইয়ে দিনের বড় সময় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্য থাকছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতিও রয়েছে।

দেশে উৎপাদনমুখী বৃহৎ শিল্প খাতের সংকট এখন বহুমাত্রিক। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল কয়েক বছর ধরেই। অতি সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে। কোথাও বিক্রি ও ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে আনা হচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাংক ঋণের চাপ উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ থেকে দূরে রাখছে। জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ধরে রাখতে বাড়ছে ব্যয়। এর সঙ্গে ডলার সংকট, দুর্বল চাহিদা ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট যুক্ত হয়ে শিল্প খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর মেজর ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস: মান্থলি আপডেট প্রতিবেদনের শিল্প উৎপাদন সূচক বা আইআইপি বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়কালে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক পরিবর্তন হয়ে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশে নেমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্নমুখী সংকটে দেশে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক ধারায় গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির পরিবর্তন ছিল ইতিবাচক ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক ইতিবাচক ৭ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে এসেছে। ঋণপ্রবাহের চিত্রও একই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির মধ্যেও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। সে হিসাবে বাস্তবায়ন হয়েছে অর্ধেকের সামান্য বেশি।

শিল্প খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিনিয়োগ তো দূরের কথা, বিদ্যমান শিল্পের উৎপাদন ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিভিন্ন ভারী শিল্প উদ্যোক্তাদের কথায়ও।

জ্বালানি সংকটে দেশের ভারী শিল্প খাত ভুগছে কয়েক বছর ধরেই। এ সংকটের বড় ভুক্তভোগী গ্লাস শিল্প। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট হলেও গ্লাস ফ্যাক্টরিতে চুল্লি বা ফার্নেস বন্ধ করার সুযোগ নেই। উৎপাদন কমানোর চেয়ে উৎপাদন চালু রাখতেই উদ্যোক্তাদের বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে।

গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (জিএমইএবি) প্রেসিডেন্ট ও নাসির ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্লাস শিল্পের প্রকৃতির কারণে সরকারি উৎপাদন তথ্যের সঙ্গে খাতটির বাস্তবতার পুরোপুরি মিল পাওয়া যায় না। কভিডকালে লকডাউনের সময়ও কারখানার ফার্নেস চালু রাখতে হয়েছে। তবে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়েছে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সরকার ও সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে উভয়ই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা একলাফে বেড়ে যাচ্ছে এক শ থেকে প্রায় দেড় শ শতাংশ। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হলেও বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপে পড়বে সরকার। বাড়তি খরচ মেটাতে রাজস্ব আয় বাড়ানো না গেলে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে।

আবার সমাজের একটি অংশের এই বাড়তি উপার্জন মূল্যস্ফীতি ঘটিয়ে বাকি অংশকে চাপে ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বেড়ে যেতে পারে সেবা ও পণ্যমূল্য। তখন বাজারে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে মানুষকে। কষ্টকর হয়ে যাবে তাদের জীবন নির্বাহ।

সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতনকাঠামো দেওয়া হলেও এবার তা হলো প্রায় এক যুগ পর। মন্ত্রিসভা গত সোমবার নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে। সে অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। মোট চার ধাপে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন দিতে বছরে ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হলেও সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, টাকা ছাপিয়ে ব্যয় করা হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে সরকারের সুদ বাড়বে, আর রাজস্ব খাত থেকে নিলে জনগণের ওপর প্রভাব পড়বে।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপট এই বেতন বৃদ্ধির জন্য সহায়ক নয়, কিন্তু এটি না দিয়েও উপায় নেই। এটি বাস্তবায়নে সরকারকে হয় ঋণ নিতে হবে, নয়তো টাকা ছাপতে হবে।’ তাঁর মতে, পে-কমিশন গঠন করে এভাবে নতুন বেতনকাঠামো না দিয়ে অন্যান্য দেশের মতো প্রতিবছর ৫-১০ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানো যেতে পারে। এভাবে বেতন বাড়ালে হঠাৎ করে বড় ধাক্কা আসে না।

চার ধাপে বাস্তবায়নের পথরেখা দিয়ে নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণাকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এনবিআর যদি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে অর্থনৈতিক চাপটা অনেক সহনীয় হবে। কিন্তু বাড়তি বেতন দিতে গিয়ে অগ্রাধিকারের দিক থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা থেকে যেন দৃষ্টি সরে না যায়। এগুলোকে সুরক্ষা দিয়েই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়তি আয় ভোগের চাহিদা বাড়িয়ে খুচরা ব্যবসা, পরিবহন, আবাসন ও সেবা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, তবে পণ্যের সরবরাহ একই হারে না বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, যার বোঝা সরকারি চাকরির বাইরে থাকা স্থির ও স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর বেশি পড়বে। বেসরকারি খাতেও বেতন সমন্বয়ের দাবি বাড়তে পারে।

দেশ রূপান্তর

‘ভোরের রাজধানী ভয়ংকর’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত শনিবার ভোর ৫টা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কুতুবখালীর ধোলাইপাড় পকেট গেট এলাকা। সড়কে সুনসান নীরবতা। দূরে কোথাও দেখা গেছে দুয়েকটি রিকশা। হাতেগোনা কয়েকজন মুসল্লি ফজরের নামাজ পড়তে বের হন। ধোলাইপাড় বাসস্ট্যান্ড হয়ে পকেট গেট দিয়ে যাত্রাবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল কয়েকটি মালবাহী ট্রাক। কুতুবখালী মসজিদ পেরোতেই একটি ট্রাকের পেছনে উঠে যান এক ছিনতাইকারী। চাকু দিয়ে দ্রুত রশি কেটে তরকারির বস্তা নিচে ফেলেন। পেছনে দৌড়ে আরেকজন সেগুলো সংগ্রহ করে পাশের গলিতে রাখেন। চালক টের পেয়ে ট্রাক থামাতেই ওই ছিনতাইকারী নেমে যান এবং দুজনই গলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন। একটু সামনে এগিয়ে ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি চালক ও তার সহকারীর।

পরে নিরুপায় হয়ে ত্রিপল দিয়ে বাকি মালামাল বেঁধে গন্তব্যের দিকে চলে যান তারা। পুরো সময় সড়কে পুলিশের কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ট্রাকচালক যে তৎক্ষণিক প্রতিকার চাইবেন, সে জন্য ছিল না পুলিশের টহল টিম। একই ঘটনা গত রবিবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে উত্তরা জসিম উদ্দিন রোডেও ঘটে। সুনসান নীরবতার মধ্যে এক পথচারীর কাছ থেকে দুই ছিনতাইকারী একটি মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেয়।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ধোলাইখাল পকেট গেট এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট চলাকালে মো. শাহ আলম নামে এক কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় চার যুবক। আশপাশের সিএনজি গ্যারেজ ও বস্তি ঘিরে ছিনতাইকারীদের আনাগোনা থাকায় এলাকাটি ‘অপরাধপ্রবণ’ হিসেবে পরিচিত হলেও পুলিশের নিয়মিত টহল নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সেখানেও কোনো টহল পুলিশ ছিল না। ঢাকার বিভিন্ন স্থানেও একই পরিস্থিতি। সর্বশেষ গত শনিবার ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে মারা যান বগুড়ার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনিই এমন ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী মারাও যান।

রাত গভীর হলে বাড়ে অপরাধীদের তৎপরতা : প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে হত্যাকা- থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। রাত গভীর হওয়ার পর সড়কগুলোতে মূলত ছিনতাই, ডাকাতির মতো অপতৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা এবং নির্জন ফ্লাইওভারগুলোতে এই অপরাধ বেশি ঘটে। ভোররাতে দূরপাল্লার নৈশকোচ থেকে নামা যাত্রী এবং কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে গিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল, নগদ অর্থের লেনদেন, যানজট, রাত ও ভোরের নির্জন সড়ক এবং অপরাধীদের দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসব কারণে রাজধানীতে ছিনতাই বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি ভোর ও রাতে কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি ও টহলের ঘাটতিও অপরাধের ঝুঁকি আরও বাড়ায়। অনেক ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার পুরনো অপরাধে জড়াচ্ছে।

ঢাকার যেসব স্থানে হচ্ছে নানা অপকর্ম : বর্তমানে রাজধানীতে ডিএমপির তালিকাভুক্ত প্রায় ১৪শ ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। এর বাইরেও রাজধানীজুড়ে হাজারের বেশি ভাসমান ছিনতাইকারী রয়েছে। যারা ঢাকার বাইরে থেকে কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়ে আবার চলে যায়। ডিএমপির তথ্য বলছে, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের মধ্যে ওয়ারীতে সর্বোচ্চ ৩৪০ জন সক্রিয় রয়েছে। এরপরেই ২৪০ জন করে সক্রিয় তেজগাঁও ও উত্তরা বিভাগে। মতিঝিলে সক্রিয় ১৬৮ জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সঙ্গে ছিনতাইয়ের হটস্পটও নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। এ তালিকায় মোহাম্মদপুর, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, দারুস সালাম, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম, বিমানবন্দর, তেজগাঁও, কোতোয়ালি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলানগর, আদাবর ও খিলক্ষেত অন্যতম। আর ঢাকার ৫০ থানা এলাকায় চার শতাধিক ছিনতাইয়ের হটস্পট রয়েছে। যেখানে গভীর রাত ও ভোরে ছিনতাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। তবে তেজগাঁও ও ওয়ারী বিভাগ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ও মামলাতে যেমন এগিয়ে, ছিনতাইয়ের হটস্পটেও শীর্ষে। ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের গত সাত মাসে রাজধানীতে দস্যুতার ঘটনায় ১১৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। কেননা, অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা বা জিডি করেন না। আবার ছিনতাই হলেও মামলা এড়াতে হারানোর জিডি করেন। ফলে ছিনতাইয়ের প্রকৃত ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়।

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত : অপরাধ রোধে পুলিশের শীর্ষ কর্তারা বৈঠক করেছেন। থানা পুলিশের কর্মকা- নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিশেষ বৈঠক করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের সবকটি ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়েছে যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে সেখানকার কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি তাৎক্ষণিক বদলিসহ সাময়িক বরখাস্তও করা হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, এলাকায় থানা পুলিশের ঢিলেঢালা টহল হচ্ছে। রাতের বেলায় ডিউটি হয় না বললেই চলে। আবার কিছু টহল হলেও গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে রাত পার করে দেন দায়িত্বে থাকারা।

এদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ড আগের চেয়ে বেশি তৎপর হচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধ ও টার্গেট কিলিং বাড়ছে। চরমপন্থিদেরও অপকর্মও বেড়ে গেছে। দেশের ভেতরের পাশাপাশি বিদেশ থেকে হত্যার নির্দেশনা আসছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও আছে আতঙ্ক। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকার নির্দেশ দিলেও পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে না লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র। ধরা পড়ছে না দাগি অপরাধী। প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রতিটি থানায় বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের টহল বাড়াতেই হবে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেই হবে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টহলেই থাকতে হবে। একই কথা বলেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (অপারেশন) রেজাউল করিম। তিনি আরও বলেন, থানায় জনবল বা যানবাহন সংকট থাকলে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

সরেজমিনে যা দেখা গেল : গত শুক্রবার রাত ১২টার পর ও ভোরে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, গভীর রাতেও জমজমাট থাকে এই এলাকা। জনপথ মোড় থেকে যাত্রাবাড়ী চত্বরে আসা-যাওয়ার পথে অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ স্থানীয় দোকানিদের। দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ভোরে টার্মিনালে নেমে হেঁটে বা রিকশাযোগে চত্বরের দিকে যান। আর তখনই সর্বস্ব লুটে নেয় ওঁৎ পেতে থাকা ছিনতাই চক্র। দিনের বেলায়ও প্রকাশ্যেই ওই স্থানে চলে ছিনতাই। তা সত্ত্বেও দেখা মেলেনি পুলিশের টহল টিমের। লঞ্চযোগে ভোরে সদরঘাট নেমে গন্তব্যে যান দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত পুলিশের দুটি টহল টিম দেখা গেছে। তবে মেইন সড়কের বাইরে বিশেষ করে বেড়িবাঁধ, মিটফোর্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, চকবাজার হয়ে রিকশাযোগে গন্তব্যে যাওয়া মানুষকে ছিনতাইকারীর ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। এসব রুটে গভীর রাতে ও ভোরে পুলিশের টহল টিমই থাকে না।

গত রবিবার ভোর ৫টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে কথা হয় বিটিসিএল-এ কর্মরত এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি জানান, মাসখানেক আগে রাজশাহী থেকে ভোরে কমলাপুর স্টেশনে এসে নামেন। অটোরিকশা নিয়ে মগবাজার বিটিসিএল কোয়ার্টারে যাওয়ার পথে অটোরিকশায় থাকা দুই যুবক তাকে অনুসরণ করে। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পাশের গলির একটি রেস্টুরেন্টের সামনে থামেন। পেছনের রিকশাও সেখানে থামার প্রস্তুতি নেয়। তবে রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের দেখে আর থামেনি। এরপর থেকে তিনি স্টেশনে অপেক্ষা করেন, আলো ফোটার পর রওনা দেন। কমলাপুর থেকে মগবাজার বিটিসিএল কোয়ার্টার পর্যন্ত পথে কখনো পুলিশের টহল তার চোখে পড়েনি।

সড়কে থাকছে না পুলিশের উপস্থিতি: এর আগের দিন ভোরে মালিবাগ, মগবাজার, রেলগেট ও হাতিরঝিল এলাকায় ঘুরেও পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। অথচ তিন এলাকায় অটোরিকশাযোগে, বাইকে চেপে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে মাদকাসক্ত যুবকদের। দেখা যায়, শান্তিনগর থেকে মালিবাগ ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অপরাধীদের আনাগোনা। যেন কোনো শিকারি খুঁজছে। একই চিত্র দেখা যায় সিরাজুল ইসলাম খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীত পাশে সড়ক ডিভাইডারে। কয়েকজন সড়কে দাঁড়িয়ে দূর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। যেন রিকশাযোগে আসা যাত্রীদের টার্গেট করছেন। একটু এগিয়ে ওয়্যারলেস গেট বরাবর মগবাজারের দিকে যেতেই ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকা। রোগী ও স্বজনদের ঘিরে রেললাইনের আশপাশে কয়েকটি ভাসমান দোকান ভোরের দিকেও খোলা থাকে। সেখানে অন্তত দুটি গ্রুপ দেখা যায়, যারা একত্রে আড্ডা দেন। দুজন অন্য অটোরিকশায় চড়ে মধুবাগের দিকে যান। প্রায় ১০ মিনিট পর মধুবাগের দিক গিয়ে দেখা যায়, ওই দুই যুবককে বহনকারী রিকশা চেয়ারম্যান গলির মুখে। একজন রিকশার আড়ালে দাঁড়িয়ে, আরেকজন একপাশে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুদিকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘হিসাব মেলানোই দায়’। খবরে বলা হয়, সরকারি চাকুরেদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আগামী দুই বছরে সরকারের প্রয়োজন হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ অর্থের জোগান দিতে সরকারকে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে এজন্য সরকারের সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে রাজস্ব বাড়ানো, অন্য খাতের ব্যয়সংকোচন এবং ঋণ নিয়ে চাহিদা মেটানো। এতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে অস্বস্তি বাড়বে রাজস্ব খাতে। অন্যথায় অন্য কোনো খাতের অর্থ আনতে হবে বেতন-ভাতা পরিশোধে। সবশেষ এ দুটি পন্থায় সফল না হলে সরকারকে দেশি কিংবা বিদেশি উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করতে পারে। এসব দিক বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে আপত্তি করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। কেননা বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়লে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও। এ ছাড়া বাড়তি আর্থিক চাহিদা মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নিলে চাপে পড়বে বেসরকারি খাত; যাতে কমবে ঋণপ্রবাহ। ব্যাহত হবে ব্যবসাবাণিজ্য। এসব কারণে বিশ্লেষকরা ‘পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে হিসাব মেলানোই দায়’ বলে মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বছরে প্রয়োজন অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ অঙ্কটি কেবল অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ নয়; এটি আগামী বছরগুলোয় সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়ের কাঠামোর ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলবে। কারণ হিসেবে বলেছেন, বেতন-ভাতা একবার বাড়লে তা পরবর্তী বছরগুলোয় বহাল থাকবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বর্ধিত বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধার ক্রমবর্ধমান দায়। ফলে নতুন পে-স্কেলকে এখন শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সক্ষমতার ওপরও পরীক্ষা।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি। এ প্রেক্ষাপটে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পে-স্কেল ব্যয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট রাজস্বের প্রায় ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের অগ্রগতি না হলে নতুন ব্যয় সামলাতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় আরও সংকুচিত করতে হবে। বর্তমান বাজেটেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি এবং পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ সংশ্লিষ্ট খাতে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে এ ব্যয় আরও বাড়বে। সমস্যাটা এখানেই-বেতন ও পেনশন হচ্ছে অনমনীয় ব্যয়। রাজস্ব কমে গেলে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত বা কাটছাঁট করতে পারে। বেতন-পেনশন কমানো যায় না। ফলে ভবিষ্যতে রাজস্ব আদায় দুর্বল হলে সমন্বয়ের চাপ পড়বে তুলনামূলক নমনীয় ব্যয়ের ওপর।

আইএমএফের সমীকরণ: গত জুলাইয়ে ঢাকা সফরের সময় আইএমএফ প্রতিনিধিরা বলেছিলেন আপাতত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচি। রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা-এসব বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এ অবস্থায় বড় অঙ্কের নতুন স্থায়ী ব্যয় যুক্ত হওয়ায় সরকারের জন্য আইএমএফের সঙ্গে আর্থিক নীতি সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত না বাড়িয়ে ব্যয়ের কাঠামো সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে আর্থিক সংহতির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।

বাজারে বাড়বে চাহিদা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পে-স্কেলের পুরো প্রভাব নেতিবাচক নয়। প্রায় ৩৩ লাখের বেশি সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ও অন্যান্য সুবিধাভোগীর হাতে বাড়তি অর্থ যাবে। এর বড় অংশ দ্রুত বাজারে ফিরে আসবে। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা, রেস্তোরাঁ, ভোগ্যপণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়বে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর ব্যবসা কিছুটা গতি পেতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধির মার্জিনাল প্রপেনসিটি টু কনজিউম বা প্রান্তিক ভোগপ্রবণতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের বাড়তি আয়ের বড় অংশই ভোগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদার একটি গুণিতক প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ।

বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি: চাহিদা বাড়ার বিপরীতে উৎপাদন না বাড়লে এই ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত মূল্যস্ফীতির চাপে পরিণত হতে পারে। অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় নীতি-চ্যালেঞ্জ। নতুন পে-স্কেলের কারণে যদি চাহিদা বাড়ে কিন্তু খাদ্য, শিল্পপণ্য ও সেবার সরবরাহ সে অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে প্রকৃত আয় বৃদ্ধির একটি অংশ মূল্যবৃদ্ধিতে শোষিত হতে পারে। তাই পে-স্কেলের অর্থনৈতিক ফলাফল নির্ভর করবে কত টাকা অতিরিক্ত বাজারে যাচ্ছে তার ওপর নয়; বরং সেই টাকার বিপরীতে অর্থনীতি কতটা অতিরিক্ত পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারছে তার ওপর।

স্বস্তি না চাপ: নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে প্রকৃত আয় ক্ষয় হওয়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির।

কিন্তু রাষ্ট্রের হিসাব আলাদা। সরকারের জন্য মূল প্রশ্ন হচ্ছে-অতিরিক্ত আয় সৃষ্টি না করে অতিরিক্ত ব্যয় কত দিন বহন করা সম্ভব? বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে ভোগ বাড়বে, ভ্যাট-কর আদায়ও বাড়তে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ঋণ ও সুদ ব্যয় বাড়লে সেই সুবিধার একটি অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার উন্নয়ন ব্যয় কাটছাঁট করে পে-স্কেলের অর্থ জোগালে ভবিষ্যৎ উৎপাদনসক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি পে-স্কেল ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করের আওতা ও আদায় বাড়াতে পারে, তাহলে চাপ অনেকটাই সামলানো সম্ভব। কিন্তু রাজস্ব কাঠামোর সংস্কার ছাড়া ঋণনির্ভর অর্থায়ন বাড়লে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’ যা সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।