বেতন বৃদ্ধি পেলে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে

বেতন বৃদ্ধি পেলে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে

ফন্ট সাইজ:

বেতন বৃদ্ধি পেলে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আমরা একটা জিনিস হয়তোবা অনেকে মিস করছি। বেতন কি অনেক বেড়ে যাবে? আমি কথা বলে দেখেছি। আমাদের যে পাবলিক সার্ভেন্টস আছেন, তাদের অনেকের বেতন, যেহেতু স্কেল দীর্ঘদিন হয়নি, কিন্তু তাদের ইনক্রিমেন্ট হতে হতে তাদের বেতন অনেকক্ষেত্রে ওই পর্যায়ে চলে গেছে। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, দীর্ঘদিন নতুন পে-স্কেল না হলেও ইনক্রিমেন্ট পেতে পেতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত স্কেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে, ঢালাওভাবে বাজারে টাকা বেড়ে মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণ হওয়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে এ বছরের শেষ নাগাদ দেশের ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেয়া হবে, যার মাধ্যমে ২ কোটি প্রান্তিক মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন।

যুদ্ধবিমান কেনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থা সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্ভবত, যদিও আমি সামরিক এক্সপার্ট নই, কিছু খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। সবচেয়ে দুর্বল সম্ভবত বিমান বাহিনী। আমাদের সবচেয়ে আধুনিক যে ফাইটার বলা যায়, সংখ্যায় খুব অল্প, সেটা হলো মিগ-২৯। ওগুলো ঠিক অপারেশনাল না।

সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক চালু, আগামী বছর পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে রূপপুর: চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের দিকে যাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে-এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, দুই বছর সময় লাগার অর্থ এই নয় যে, বর্তমান সংকট থেকে আগের অবস্থায় ফিরতে এত সময় লাগবে। বরং সাময়িক যান্ত্রিক ও সরবরাহজনিত সমস্যাগুলো সমাধান হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অল্টারনেটিভ এনার্জি (বিকল্প জ্বালানি)-এর মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র এই মাসেই, মানে সেপ্টেম্বরে, একটা পরীক্ষামূলক লঞ্চিংয়ের আলাপ হয়েছে। আগামী বছর থেকে এটা ফুল স্কেলে লঞ্চিংয়ে যাবে। রূপপুর চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধরনের সংযোজন হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ কমবে বলে সরকারের প্রত্যাশা। এর পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দুই বছরের সময়সীমার কথা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকার নতুন একটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) আনছে। এর অর্ডার এরইমধ্যে দেয়া হয়েছে এবং সেটি দেশে আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। একই সময়ে গ্যাসের দেশীয় উৎস বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলবে।

বাপেক্স ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়ে আসার জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে রূপপুরের পূর্ণমাত্রার উৎপাদন যুক্ত হলে আগামী দুই বছরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, সব মিলিয়ে আমরা বলছি দুই বছর সময় লাগবে। তখন আমরা আগে যেটাকে ভালো বিদ্যুৎ বলতাম, তার চেয়ে অনেক ভালো বিদ্যুতে আমরা পৌঁছাবো। তখন শহর এবং গ্রাম মিলিয়ে আমরা প্রায় আনইন্টারাপ্টেড (নিরবচ্ছিন্ন) বিদ্যুৎ দিতে পারবো। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাতে চায় না বলে সতর্ক করেন উপদেষ্টা। এর অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। তিনি জানান, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলএনজি’র দাম প্রতি ইউনিটে ১২-১৩ ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৪-২৫ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এলএনজি’র দাম ৩০ ডলারের উপরে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ খাতেও চাপ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।

সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দ্রুত কাজ করবে সরকার: সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকা নিশ্চিত করতে নতুন ওয়েজ বোর্ড নিয়ে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করবে। ব্রিফিংয়ে সংবাদকর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং অষ্টম ও নবম ওয়েজ বোর্ডের জটিলতার বিষয়টি সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের যদি আমরা তাদের চাকরি এবং জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে না পারি, তবে বেটার জার্নালিজম বা ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ একমত এবং নিশ্চিত করছি যে, এ ব্যাপারে সরকার খুব দ্রুত কাজ করবে। সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই বাস্তবায়ন, আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না। ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।