চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ছে রোগী, আগস্টে আক্রান্ত ১২শ’ জন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ছে রোগী, আগস্টে আক্রান্ত ১২শ’ জন

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও এডিস মশার বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু আগস্ট মাসেই চট্টগ্রামে ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুজন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নগরীতে ৮৮৬ জন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৮৭২ জন এবং চট্টগ্রামের বাইরে ২৭৮ জন রয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবে, চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৮৮৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন এবং বাংলাদেশ ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ইনস্টিটিউটে (বিআইটিআইডি) ২ জন ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তের পাশাপাশি আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ৩০শে আগস্ট পাহাড়তলী এলাকার জাফর আহমেদ (৫০) নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’ ও ‘মাল্টি অর্গান ফেইলর’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২৭শে আগস্ট সন্দ্বীপের বাসিন্দা মো. মঈন উদ্দীন (৩৫) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে’ আক্রান্ত ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রক্তিম চৌধুরী।

চসিকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, মশার লার্ভা উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে জনজীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে একজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরিচ্ছন্নভাবে দোকান পরিচালনা ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত পুরো কমিউনিটি একসঙ্গে কাজ করবো না ততক্ষণ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিরাময় করা যাবে না। এটা করতে হলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা একা যেমন সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব না তেমনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষেও সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব আশরাফুল আলম জানান, বর্ষা মৌসুম খুব ঝুঁকিপূর্ণ একটা সময়। মাসব্যাপী ডেঙ্গু নিধন ও প্রতিরোধ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য ৬০ থেকে ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ওখানে একটু বেশি কাজ করবে পাশাপাশি অন্যান্য কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত যে কার্যক্রম রয়েছে সেগুলো চলবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি হটস্পটগুলোতে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য ৬০ জনের একটি প্রশিক্ষিত টিম তৈরি করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকাল-বিকাল লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, ফগিংও চলছে।’