আগামীকাল রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় না দিতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবে প্রসিকিউশন

আগামীকাল রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় না দিতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবে প্রসিকিউশন

ফন্ট সাইজ:

আগামীকাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি এবং দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। তবে এদিন রায় ঘোষণা না করতে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন থেকে আবেদন করা হবে বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই মামলায় নতুন কিছু এভিডেন্স রয়েছে যা আমরা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে পারিনি। এছাড়া মামলাটিতে কিছু অপর্যাপ্ত এভিডেন্স রয়েছে যা উল্লেখ করে মামলার রায় ঘোষণা মূলতবির আবেদন করবো। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আগামিকাল ট্রাইব্যুনালে এই আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম মানবজমিনকে বলেন, আগামিকাল রামপুরা মামলায় রায় ঘোষনার দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশন এটি মুলতবির আবেদন করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ এর ৪ উপধারা অনুযায়ী প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাক্ষী ও নথিপত্রের তালিকা দাখিল করা সত্ত্বেও, তা ট্রাইব্যুনালের অনুমতিক্রমে বিচারকার্যের যেকোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত সাক্ষী উপস্থাপন করা বা অতিরিক্ত প্রমাণ দাখিল করতে পারবে। এক্ষেত্রে যদি নতুন করে মামলার সাক্ষী আনা হয় তাহলে সাক্ষীর ‘এক্সামিনেশন’ (সাক্ষ্যগ্রহন) ও ‘ক্রস-এক্সামিনেশন’ (সাক্ষীর জেরা) সম্পন্ন হবে। মামলাটি পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য নতুন করে প্রস্তুত হবে। কিন্তু পুরো বিচার কাজ আবার পুনরায় সম্পন্ন করার প্রয়োজন নেই।

এই মামলায় মোট আসামি ৫ জন। এর মধ্যে ৪ জন পলাতক রয়েছেন। এরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এদিকে মামলার আসামি পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
এর আগে, গত বছরের ৩১শে জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ৭ই আগস্ট প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। পরে ১৮ই সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯শে জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। তখন বাসার কাছে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান তিনি। এ সময় পুলিশ গুলি শুরু করলে আমির হোসেন দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় ওঠে। সেখানে আমির হোসেনকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে। পরে পুলিশ চলে গেলে আমির হোসেন ঝাঁপ দিয়ে কোনো রকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আমির হোসেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। এ ছাড়া একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নামের দুইজন নিহত হন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন