ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ালেন। দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা, ২০৭টি ম্যাচ এবং ১২৫টি গোলের এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চের পর ৩৯ বছর বয়সে এসে থামলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। চলতি বছরের জুলাইয়ে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের হতাশা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হলেও আর্জেন্টিনাকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। দেশের হয়ে তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করে তিনি নিজেকে অমরত্ব দিয়েছেন। এক নজরে দেখে নেয়া যাক সংখ্যায় মোড়ানো লিওনেল মেসির রূপকথার সেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার:
ম্যাচ ও গোল: আর্জেন্টিনার জার্সিতে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচে মাঠে নেমে সরাসরি ১৮৫টি গোলে অবদান রেখেছেন মেসি (১২৫টি গোল এবং ৬০টি অ্যাসিস্ট)।
পায়ের জাদুকরি পরিসংখ্যান: ১২৫টি আন্তর্জাতিক গোলের মধ্যে ১১১টি এসেছে মেসির বিশ্বখ্যাত বাঁ পায়ে। এছাড়া ডান পায়ে ১২টি, হেড থেকে ২টি এবং বুকের ছোঁয়ায় করেছেন ১টি গোল।
বিশ্বকাপের আকাশছোঁয়া রেকর্ডসমূহ:
*ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে রেকর্ড ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে অনন্য ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
*বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৪টি ম্যাচ খেলা, সর্বাধিক ২৩টি ম্যাচ জয় এবং সর্বোচ্চ ১২টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এককভাবে তার দখলে।
*টুর্নামেন্টে ২১টি গোল রয়েছে মেসির ঝুলিতে। এছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৭ ম্যাচে ৭টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
*বিশ্বকাপের পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে বেশি গোল (৭টি) এবং সবচেয়ে বেশি মিসের (৩টি) রেকর্ডও তার নামের পাশে। বক্সের বাইরে থেকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করার কৃতিত্বও তারই।
*২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬-এই তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল শুরুর একাদশে খেলা একমাত্র খেলোয়াড় তিনি। এছাড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার রেকর্ড এখন তার দখলে (৩৯ বছর ২৫ দিন)।
প্রধান টুর্নামেন্টের সম্রাট: পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে প্রধান আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে (বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ইত্যাদি মিলিয়ে) সর্বমোট ৩৫টি গোল নিয়ে সবার শীর্ষে মেসি।
সাফল্যের মুকুট: দেশকে উপহার দিয়েছেন ৩টি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা-২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২-এর ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা। পাশাপাশি ২০২২ সালের ফিনালিসিমার শিরোপাও রয়েছে তার ক্যাবিনেটে।
স্মরণীয় হ্যাটট্রিক: আর্জেন্টিনার জার্সিতে মোট ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি, যার সর্বশেষটি তিনি উপহার দেন ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই।
যেভাবে শুরু: ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র এক মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মেসির আন্তর্জাতিক পথচলা। আর দীর্ঘ ২১ বছর পর সেই জার্সিতেই পূর্ণতা পেল ইতিহাসের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়।
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালের পর আবেগের বশে অবসরের ঘোষণা দেন এলএমটেন। পরবর্তীতে জাতীয় দলে ফিরে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেন তিনি। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে এল সেই চিরবিদায়ের ক্ষণ। বুট জোড়া তুলে রাখার আগে তিনি বিশ্ববাসীকে এমন সব অবিস্মরণীয় স্মৃতি উপহার দিয়ে গেছেন, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে যুগ যুগ বেঁচে থাকবে।
