বিদেশে ভ্রমণ করবেন না। কিনবেন না সোনা। এমনকি বিদেশে বিয়েও করবেন না। এ আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বেড়ে ‘অসাধারণ’ ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। এ কথা জানিয়ে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান মোদি। একই সঙ্গে তিনি আবারও নাগরিকদের আত্মনির্ভর ভারত গড়ার অঙ্গীকার নতুন করে গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
মঙ্গলবার সকালে কিরগিজস্তান থেকে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণকে অনেক অভিনন্দন। ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পুরো দেশে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশবাসীর দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। এটি আমাদের সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।
বিশ্বের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত এই দুরূহ সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে মোদি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে ডুবে আছে বিশ্ব। চারদিকে যুদ্ধের খবর। বিশ্ব নানা সংকটে ঘেরা। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ২০২০ সালে কোভিডের সময় থেকে এ পর্যন্ত কোথাও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও ভারত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা স্পষ্ট হয়েছে। ইরানে যুদ্ধ এবং এর ফলে তৈরি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির গতিকে ধীর করে দিতে পারে। এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের কেনাকাটা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্বদেশি বা স্থানীয় পণ্য ও সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক মাস আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও তিনি একই আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবারও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বিদেশ ভ্রমণ এবং অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটনের জন্য বিদেশে ভ্রমণ করবেন না। বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বা গন্তব্যভিত্তিক বিয়ের আয়োজন করা থেকে বিরত থাকুন। আমাদের ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ বা ভারতে বিয়ে করার মন্ত্র অনুসরণ করা উচিত। প্রয়োজন না হলে সোনা কেনা এড়িয়ে চলুন।
স্বদেশির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মোদি বলেন, মানুষ যত বেশি স্থানীয় পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে, ভারত তত বেশি এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা যদি আত্মনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমার পূর্ণ বিশ্বাস স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে আমরা একটি উন্নত ভারত আমাদের তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে পারব।
ভারতের প্রবৃদ্ধি উদ্যাপনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীকে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
