যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘সেপ্টেম্বরেও কঠিন গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের জন্য এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দিতে রাজি হয়নি কোনো সরবরাহকারী। আর শেষ সপ্তাহের জন্য এলএনজির দাম চাওয়া হয়েছে অস্বাভাবিক। এ কারণে সেপ্টেম্বরজুড়ে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সোমবার বিকালে স্পট মার্কেটে চার কার্গো এলএনজি কেনার আন্তর্জাতিক টেন্ডার দুটিতে (৮-৯ সেপ্টেম্বর এবং ১-২ অক্টোবর) কার্গো সরবরাহ দিতে কেউ অংশ নেয়নি। বাকি দুটি (২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৫-৬ অক্টোবর) কার্গোর দর পড়েছে অস্বাভাবিক। প্রতি ইউনিট ২৫ দশমিক ৯২ ডলার।
এদিকে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বাড়ার কারণে প্রতি মাসে সরকারকে গ্যাস খাতে লোকসান দিতে হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। গ্যাসের এই উচ্চমূল্য থাকলে চলতি বছর এলএনজি আমদানি করে সরকারকে লোকসান দিতে হবে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই লোকসান ছিল মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সেপ্টেম্বরে গ্যাসের পুরো সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রোববার। বলা হয়েছিল, যে কোনোভাবে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাঁচাতে হবে শিল্পকারখানা। সেই হিসাবে রোববার রাতে জরুরি ভিত্তিতে চার কার্গো এলএনজির জন্য স্পট মার্কেটে টেন্ডার আহ্বান করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি-আরপিজিসিএল। সোমবার বিকাল ৪টার পর সেই টেন্ডার উন্মুক্ত করে হতাশ হন সরকারি কর্মকর্তারা। কারণ, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহ দেওয়ার মতো কোনো কার্গো পাওয়া যায়নি। ৬ সেপ্টেম্বর ব্ল্যাক কিউব ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি কোম্পানি সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় এক কার্গো এলএনজি সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেই কার্গো দেওয়ার নিশ্চয়তা এখনো দেয়নি। তাই বিকল্প হিসাবে আরপিজিসিএল স্পটে সেপ্টেম্বরে জন্য এক কার্গো এলএনজি কেনার টেন্ডার দিয়েছিল। সেটি সরবরাহ দিতে কেউ রাজি হয়নি। এর অর্থ হচ্ছে সেপ্টেম্বরের প্রথম এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্যাসের রেশনিং থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবারের স্পট মার্কেটে ৪টির মধ্যে ২টি কার্গো সরবরাহকারীর দর নিয়ে হতাশ সংশ্লিষ্টরা। কারণ যে দুটি কার্গো দিতে দর দিয়েছে, তাও অস্বাভাবিক বলে মনে করেন সরকারি কর্মকর্তারা। ওই ২টিতে দর পড়েছে ২৫ দশমিক ৯২ ডলার। জাপান-কোরিয়া প্রাইজ ইনডেক্স-জেকেএম অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এলএনজির দাম হচ্ছে প্রতি ইউনিট ২২ দশমিক ৯৫ থেকে ২৩ দশমিক ৫০ ডলার। সেখানে প্রায় ২৬ ডলার সরকারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ জেকেএম ইনডেক্স ধরে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা হয়। খুব অল্প সময়ে এলএনজি সরবরাহ দিতে হলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু প্রতি ইউনিটে ২/৩ ডলারের ব্যবধান চিন্তার বিষয়। এর আগে আগস্টে এমন এক কার্গো ২৫ ডলারের বেশি প্রস্তাব করায় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করেনি। প্রসঙ্গত, প্রতি কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারকে এখন ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্পট মার্কেটে ওই চার কার্গোতে ইতিবাচক সাড়া পাবে বলে মনে করেছিল সরকার। এজন্য সোমবার রাতে জরুরি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছিল। উচ্চমূল্যের এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি জ্বালানি বিভাগ। তাই পরে মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক স্থগিত করে দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর মাস শুরু। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আজ সৌদি আরামকোর একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরামকোর আরও একটি কার্গো, ১৩ সেপ্টেম্বর পসকো, ১৬ সেপ্টেম্বর গানবোর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানবোর কোম্পানির আরও একটি কার্গো আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে।
কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হলে চলতি মাসে আরও দুটি কার্গোও প্রয়োজন হবে। দেশে এখন দৈনিক গড়ে ২৩৫ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ৭১ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস। যদিও এ দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার সক্ষমতা আছে ১১০ কোটি ঘনফুট।
ভর্তুকি নিয়ে চিন্তিত সরকার: প্রতি মাসে ১০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে ৭/৮টি কেনা হয় স্পট মার্কেট থেকে। স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গো গ্যাস কিনতে বিল দিতে হয় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কিন্তু এ গ্যাস বিক্রি করে সরকার পায় মাত্র ৩৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্গোতে লোকসান ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এই হিসাবে প্রতি মাসে এখন সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে বাড়তি লোকসান দিতে হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
আগস্টের জন্য সরকার এলএনজি আমদানি করতে পেট্রোবাংলাকে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের ভর্তুকির টাকা আজ-কালের মধ্যে চাওয়া হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। এলএনজির দাম বাড়ার কারণে এখন প্রতি ইউনিট মিশ্রিত (দেশি এবং এলএনজি) গ্যাসের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৪৫ টাকা। ৬ মাস আগে এই দাম ছিল ৩১ টাকা ৪২ পয়সা। আর সরকার বিক্রি করছে ২৩ টাকা ৯০ পয়সা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত অর্থবছর এলএনজি আমদানি করে সরকারের লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এবার এই লোকসান আরও বাড়বে। এর অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে কাতার ও ওমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশকে স্পট মাকের্ট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে অনেক দামে।
প্রথম আলো
‘ক্ষমতায় বিএনপি, চাপে সংগঠন’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপি এখন সরকারে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা মন্ত্রিসভায়, কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বড় অংশ সংসদ সদস্য। অনেকে দায়িত্ব পেয়েছেন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন তাঁরা বেশি ব্যস্ত। এর প্রভাব পড়েছে দলীয় কর্মকাণ্ডে।
এমন এক সময়ে আজ ১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। ক্ষমতায় ফেরার ছয় মাসে দলটির সামনে এখন বড় প্রশ্ন—রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনকে কতটা সক্রিয় ও জনসম্পৃক্ত রাখা যাচ্ছে।
ক্ষমতার বাইরে থাকা দুই দশকে আন্দোলন-সংগ্রামই ছিল বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখন সেই জায়গা নিয়েছে সরকার পরিচালনা। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক তৎপরতা আগের তুলনায় কমেছে। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে বড় রাজনৈতিক তৎপরতাও চোখে পড়ছে কম।
ক্ষমতার কেন্দ্র ঘিরে তৎপরতা
ক্ষমতায় ফেরার পর বিএনপির মাঠপর্যায়ের রাজনীতির চরিত্রও বদলেছে। দুই দশকে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা নেতা-কর্মীদের অনেকের প্রত্যাশা এখন দলীয় পদ, সরকারি সুবিধা কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পাওয়ার দিকে।
জেলা-উপজেলায় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন তৎপরতা। ঢাকায় এসে নেতাদের সঙ্গে দেখা করা, এলাকায় নিজেদের প্রভাবের বিষয়টি জানান দেওয়া এবং স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করাই অনেকের প্রধান লক্ষ্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও বঞ্চনার ক্ষোভ।
আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন এলাকায় দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ। আন্দোলনের সময় মাঠে না থাকা ব্যক্তিদের এখন সরকার ও প্রশাসনে জায়গা পাওয়া নিয়েও তৃণমূলে অসন্তোষের সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ‘মব’ সন্ত্রাস, দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠছে।
এ বিষয়ে গত ২৭ আগস্ট বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কথা বলেন। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, সংশোধন না হলে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কারও মুখ দেখা হবে না।
দলের নেতাদের আশঙ্কা, এসব প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি। কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠে এসব নির্দেশনা কতটা কার্যকর হচ্ছে—সেটিই এখন প্রশ্ন।
সংকট ও রাজনৈতিক চাপ
ক্ষমতার প্রথম ছয় মাসেই জ্বালানি তেলের সংকটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট প্রকট হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও স্বস্তি নেই। এসব নিয়ে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলগুলো সরব।
দ্রুত এসব সংকটের সমাধান না হলে তা বিএনপির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মনে করেন, এসব সংকটের জন্য বিএনপি সরকার দায়ী নয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৈশ্বিক কারণেই এসব সংকট তৈরি হয়েছে। দৈব-দুর্বিপাক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে-কয়ে আসে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট থেকে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর সমাধানে সরকার দিনরাত কাজ করছে।
সরকারে ব্যস্ত নেতারা, সংগঠনে স্থবিরতা
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বিএনপির সামনে দুটি সমান্তরাল দায়িত্ব তৈরি হয়—রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলীয় সংগঠন সচল রাখা। কিন্তু দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা মন্ত্রিসভায় এবং কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বড় অংশ সংসদ সদস্য হওয়ায় সাংগঠনিক কাজে সময় কমেছে। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরকার ও দলের দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সাংগঠনিক স্থবিরতা বাড়তে পারে।
এ স্থবিরতা কাটাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হয়ে মহাসচিব পদ ছাড়ার পরপরই রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী কমিটিতে চারজন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। দলের নেতারা মনে করছেন, নীতিনির্ধারণী ফোরাম সম্প্রসারণের ফলে সরকার ও সংগঠনের কাজের সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচন বড় পরীক্ষা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—বিভিন্ন স্তরে দলীয় সমর্থন পেতে আগ্রহী নেতার সংখ্যা বাড়ছে। একই পদে একাধিক নেতা তৎপর থাকায় কোথাও কোথাও প্রতিযোগিতাও তীব্র।
দলের একনিষ্ঠ কিন্তু এখনো মূল্যায়ন না পাওয়া একাধিক নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, ক্ষমতায় এসে পদ ও নির্বাচনী সমর্থনের প্রতিযোগিতায় তা দুর্বল হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী নেতার পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দিলে বঞ্চিতরা বিদ্রোহী হতে পারেন। আবার মাঠের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা উপেক্ষা করলেও নির্বাচনী ফলাফলে তার প্রভাব পড়তে পারে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবদান, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে। তবে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের মতের সমন্বয় করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
তৃণমূলের এই টানাপোড়েন সামলাতে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করছেন। দলকে শক্তিশালী করা, ঐক্য ধরে রাখা, স্থানীয় নির্বাচনে বিভেদ এড়ানো এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বের দূরত্ব না বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘সরকারি বেতন বাড়ছে দ্বিগুণের বেশি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। জাতীয় বেতন স্কেল (পে স্কেল)-২০২৬ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন এই বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে জাতীয় পে স্কেলের সঙ্গে মিল রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার সেগুলোর ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সচিব কমিটি গঠন করেছিল। সচিব কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রিসভা নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি এসব তথ্য জানান।
কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন : নতুন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে এক লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে এক লাখ ১৩ হাজার এবং চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।
পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৬ হাজার এবং নবম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।
দশম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে ট্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ৩২ হাজার টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।
এর পরের গ্রেডগুলোতে বৃদ্ধির হার আরো বেশি। ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।
১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৮০০ টাকা।
১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে আট হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা, ১৯তম গ্রেডে আট হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডে আট হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় মূল বেতন বৃদ্ধির হার গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১৪২ শতাংশ।
২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ : নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, বর্তমান সরকার এক গ্রেড এক পেনশন বা ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) পদ্ধতি প্রবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পদ্ধতি সামরিক ও অসামরিক সব ক্ষেত্রে একই সঙ্গে বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। ওআরওপি পদ্ধতি এই মুহূর্তে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসরগ্রহণকারীদের কোনো তথ্য না থাকায় সরকার পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তবে এই মুহূর্তে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধাপভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তদনিম্ন নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ১০০ শতাংশ; ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৭৫ শতাংশ; ২০ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৬৫ শতাংশ; ৩০ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার এক টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ফলে যেসব পেনশনভোগী দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং যাঁরা তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাচ্ছেন তাঁদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণ অনেক বেশি হবে।
সরকার মনে করে, নতুন বেতন স্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিম্ন গ্রেডে বেশি হারে বেতন বৃদ্ধি: নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমিয়ে ৭.৮:১ করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে।
২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা হওয়ায় বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।
অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হলেও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাচ্ছেন।
সমকাল
‘মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় তিন ধাপে সরকারি কর্মচারীদের বেতন’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বেতন স্কেলের মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করা হবে। তবে সব ধরনের ভাতা একযোগে মিলবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে। চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
সরকারের হিসাবে, প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। তবে দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বেতন বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগের পরিস্থিতিতে চলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। জীবনযাত্রার মানও অনেক কমে গিয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুদিকের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে তিন ধাপে বাস্তবায়ন
একযোগে পুরো বেতন না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পেছনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিই প্রধান বিবেচনা ছিল বলে জানান নাসিমুল গনি। তাঁর ভাষায়, অবশ্যই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়েছে। না হলে তো একযোগেই পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া হতো।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে সব ভাতা একযোগে কার্যকর হবে। কম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে বলেও মনে করছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানুষের হাতে টাকা না থাকলে অর্থনীতি সচল থাকে না। কৃষকের হাতে সরাসরি টাকা দেওয়া, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা কিংবা শিল্পীদের আর্থিক সহযোগিতার লক্ষ্যও বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো। তিনি বলেন, মানুষের হাতে অর্থ গেলে তারা কেনাকাটা করবে এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রেও একই চিন্তা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা আগে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, বেতন বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে অগ্রাধিকার
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আগে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি হিসাবে, নতুন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, নিচের দিকের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বেতন কাঠামোতেও তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পেনশনেও বড় বৃদ্ধি
অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও সুখবর রয়েছে নতুন কাঠামোয়। সরকার আপাতত ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন পদ্ধতি চালু না করলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার এক থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার এক থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ বাড়বে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানির বহুমুখী সংকটে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের একযোগে সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বড় কয়েকটি বিদ্যুেকন্দ্রের ইউনিট বন্ধ থাকা। রবিবার রাত ২টায় লোডশেডিং সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৯৫ মেগাওয়াটে ওঠে। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায়ও চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ বিদ্যুত্ সরবরাহ করা যায়নি। সাবস্টেশন পর্যায়ে লোডশেডের এ তথ্যের চেয়ে গ্রাহক অভিজ্ঞতায় লোডশেডিং আরো বেশি। অর্থাত্ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা নাজুক বিদ্যুত্ পরিস্থিতি আগস্ট মাস শেষ করল দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ লোডশেডিং নিয়ে।
তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুত্ না থাকায় রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে শিল্পকারখানার উত্পাদন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ছে। কৃষিপ্রধান এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেচ। বিদ্যুত্ না থাকায় পোলট্রি ও গবাদিপশুর খামার নিয়েও বিপাকে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। সংকটকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। আগস্টে কয়েকটি জেলায় সড়ক অবরোধ ও বিদ্যুত্ কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিদ্যুত্ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও।
সোমবারে গড়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেড
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি আগস্টে দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডের রেকর্ড হয়েছে। মাস জুড়েই ছিল রেকর্ড লোডশেড। এলএনজি সরবরাহ না বাড়লে এবং পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুেকন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালু না হলে দ্রুত পরিস্থিতির বড় উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কয়লার মজুত এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আর গরম না কমলে সার্বিক সংকট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৩৩৮ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯০৪ মেগাওয়াট। অর্থাত্ চাহিদার ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ বিদ্যুত্ সরবরাহ করা যায়নি।
এর আগে রাত ১টায় ১৬ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ২৪৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৪২৭ মেগাওয়াট। রাত ২টায় চাহিদা বেড়ে ১৬ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ কমে ১৩ হাজার ২১৪ মেগাওয়াটে নামে। তখন দিনের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। ভোরের পর ঘাটতি কিছুটা কমলেও তা স্থিতিশীল থাকেনি। সকাল ৬টায় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট। সকাল ৯টায় তা ১ হাজার ৯৬৭ এবং সকাল ১১টায় ১ হাজার ৪৪৫ মেগাওয়াটে নামে। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুপুর ১২টায় লোডশেডিং দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৩ হাজার ১০১ মেগাওয়াটে ওঠে। ঐ সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৪৫ মেগাওয়াট। রাত ১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘণ্টাপ্রতি হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুত্ সরবরাহের এমন বড় ওঠানামার কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোও নির্দিষ্ট সময়সূচি ধরে লোডশেডিং করতে পারছে না।
রবিবার সরবরাহ হয়নি ৭ কোটি ১৫ লাখ ইউনিট
রবিবারও দিনভর উচ্চমাত্রার লোডশেডিং হয়েছে। পিজিসিবির জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ৩টায় উত্পাদন ছিল ১৩ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং করা হয় দিনের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট। বিকাল ৪টায়ও ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উত্পাদন বাড়ানো হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। রাত ৯টায় উত্পাদন দিনের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৮২৯ মেগাওয়াটে উঠলেও চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট। ঐ সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৩৯৩ মেগাওয়াট।
পিজিসিবির হিসাবে, রবিবার সারা দিনে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ইউনিট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়েছে। চাহিদা ছিল প্রায় ৪১ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট। ফলে ৭ কোটি ১৫ লাখ ইউনিটের বেশি বিদ্যুত্ সরবরাহ করা যায়নি। অর্থাত্ এক দিনে গ্রাহকের মোট চাহিদার প্রায় ১৭ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যুত্ ঘাটতি ছিল।
বণিক বার্তা
‘নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিল করল কাতার এনার্জি’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল (ফোর্স মেজর) করল কাতার এনার্জি।
এর আওতায় ইউরোপ ও এশিয়ার বেশকিছু ক্রেতা দেশের এলএনজি সরবরাহ বাতিল অব্যাহত থাকবে। এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে ফোর্স মেজরের আওতায় রয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
‘ফোর্স মেজর’ হচ্ছে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারীর মতো অপ্রত্যাশিত ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে চুক্তি পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িক অব্যাহতি।
দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি চুক্তিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী কাতার। প্রতি বছর দেশটি থেকে অন্তত ৪০ কার্গো এলএনজি আসে দেশে। সংঘাত না বাধলে দীর্ঘমেয়াদি দুটি চুক্তির আওতায় চলতি অর্থবছরে দেশটি থেকে মোট ৫৬ কার্গো এলএনজি আসার কথা ছিল। যদিও এখন এসব কার্গোর মধ্যে অর্ধেক পাওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কাতার এনার্জি থেকে বার্তা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।
ফোর্স মেজর নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি কাতার এনার্জি পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে কিনা জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে অন্যান্য ফোর্স মেজরের বিষয়টি আমরা শুনেছি।’
এদিকে এশিয়ায় কাতার এনার্জির আরেক ক্রেতা পাকিস্তানকে গত সপ্তাহে জানানো হয়েছে, এলএনজি কার্গো বাতিলের এ পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বিষয়টি তাদের নোটিস দিয়ে জানানো হয়েছে। আর ইউরোপের আরো কয়েকজন ক্রেতাও একই ধরনের নোটিস পেতে শুরু করেছে বলে দোহা নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এলএনজির অন্যতম বড় সরবরাহকারী কাতার এনার্জির ফোর্স মেজরের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতারা বিকল্প উপায়ে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বড় সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তও নেয়। যদিও এ পদ্ধতিতে কিনতে গিয়ে অন্তত ছয়টি কার্গো দিতে ব্যর্থ হয় সরবরাহকারীরা। এতে দেশে বড় ঘাটতি তৈরি হয়, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, আবাসিক ও সিএনজি খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে কার্গো পেতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থের বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা বাড়িয়েছে সরকার। গত সপ্তাহে পেট্রোবাংলা দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে, যার প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়েছে ২৪ ডলারের ওপরে।
এলএনজি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে পেট্রোবাংলা সরবরাহকারীর তালিকা আরো বড় করছে। বর্তমানে ২৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। নতুন করে আরো নয়টি কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচনা করে তালিকাভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত এলএনজি কিনতে দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কোম্পানির তালিকা বাড়ানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর গত ৪ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথমবারের মতো এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং সরবরাহে ফোর্স মেজর ঘোষণা করে। এ বিঘ্নের কারণে বৈশ্বিক বাজার থেকে কাতার অধিকাংশ এলএনজি কার্গো সরবরাহ কার্যত সরিয়ে নেয়।
বৈশ্বিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইসিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রফতানি করেছে। অথচ এর আগের বছরের একই সময়ে দেশটি রফতানি করেছিল ৫০৯টি কার্গো। রফতানি কমে যাওয়ায় গ্যাস বিক্রি থেকে কাতার প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার (২০.৭ বিলিয়ন ইউরো) রাজস্ব হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের এলএনজি রফতানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘বিদ্যুতে ভোগান্তি চলছে, গ্যাসে স্বস্তির আশা’। খবরে বলা হয়, সব রকম চেষ্টা করেও বিদ্যুতের জোগান ১২ থেকে ১৩ হাজারের ওপরে ওঠাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিপরীতে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে-রাতে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি হচ্ছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য খোলাবাজার থেকে এলএনজি কার্গোর জোগাড় হওয়ায় গ্যাসের সংকট কিছুটা হলেও কমে আসতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।
গতকাল সোমবার বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার বিদ্যুতের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রোববার রাত ১টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৩৫ মেগাওয়াট; আবার সোমবার বেলা ১টায়ও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯০৪ মেগাওয়াট। এ ছাড়া এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লোডশেডিংয়ের চাপ ১ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াটের নিচে নামেনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৬ ঘণ্টা ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম হয়েছে। আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল ৬ ঘণ্টা।
এদিকে মাত্রাছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বড় বড় শিল্পকারখানার পাশাপাশি পোলট্রি খামার, গরুর খামার, সেচ, কৃষি—সবকিছুই বিপাকে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় উত্তেজিত জনতা আবারও বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।
ঢাকা শহরাঞ্চলের দুই বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসি গ্রামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি ফিডার লাইনে দিনে অন্তত তিনবার করে লোডশেডিং দিচ্ছে। জুলাই মাসে কম হলেও আগস্টে ঢাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। কেবল দিনে নয়, রাতের বেলায়ও কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
ঢাকার উত্তরাংশের বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডেসকো সোমবারের লোডশেডিংয়ের যে সূচি প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ৬১৮টি ১১ কেভির ফিডার লাইনের প্রতিটিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে পালা করে অন্তত তিন ঘণ্টা হারে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। গরমের সময় ডেসকোর সর্বোচ্চ চাহিদা ১ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট। সরবরাহ ১ হাজার মেগাওয়াটের নিচে।
অন্যদিকে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডিপিডিসি লোডশেডিংয়ের সূচি প্রকাশ না করলেও বিতরণ এলাকার গ্রাহকেরা দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
সেপ্টেম্বরের জন্য ১০ কার্গো এলএনজি
দেশীয় গ্যাসের মজুত কমতে থাকায় প্রতিবছর ১১৫ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই হিসাবে প্রতি মাসে অন্তত ১১ কার্গো এলএনজির দরকার। কিন্তু গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন, কার্গো সংকট, বৈরী আবহাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এলএনজি কার্গো এসেছে মাত্র ছয়টি। এতে এলএনজি থেকে গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। যদিও এলএনজি থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ওই টার্মিনালের রয়েছে।
এদিকে গত দুই মাসে দেশীয় গ্যাসের উত্তোলনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। আগে যেখানে দৈনিক ১ হাজার ৬৩০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেশীয় কূপগুলো থেকে আসত; এখন সেটা ১ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বেশ চড়া দামে আট কার্গো এলএনজি কেনা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্রয় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনা নিশ্চিত করা হবে। সেপ্টেম্বর মাসে ১০ কার্গো এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সেই মাসে গ্যাস-সংকট আরও কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য কেনা আট কার্গো এলএনজির প্রতিটির দাম ইউনিটপ্রতি (এমএমবিটিইউ) ২৩ থেকে ২৪ ডলার করে খরচ হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
রোববার সন্ধ্যা ৬টায় দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৭১২ মিলিয়ন ঘনফুট হারে এলএনজি আসছিল, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই সময় সামগ্রিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যাচ্ছিল ২ হাজার ৩২২ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট বিবেচনা করা হলেও ২ হাজার ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পেরেছিল পেট্রোবাংলা।
দেশ রূপান্তর
‘প্রত্যাশার চাপে বিএনপি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ ৪৯ বছরে পা দিচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতিহাস, ঐতিহ্যের ধারক-বাহক দলটি একাধিকবার সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করেছে। ক্ষমতায় এসে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নানামুখী ব্যতিক্রমী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষণা করা ইশতেহার বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে কাজ। জটিল সময়ে নানামুখী প্রত্যাশার চাপ রয়েছে দলটির ওপর।
সর্বশেষ দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন ও শত শত নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর থেকেই চলছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। বিশেষ করে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে। এমন প্রেক্ষাপটে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে গণমুখী রাজনৈতিক চর্চা ও জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে আবারও ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপির বড় শক্তি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন। দেশের জনগণই হলো দলটির রাজনৈতিক শক্তি। তাই বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই জনগণের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে।’
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির জন্ম। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং একটি বিকল্প রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে দলটির যাত্রা শুরু হয়। এর মূল আদর্শ ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা বাঙালি সংস্কৃতির পাশাপাশি দেশের সব নাগরিকের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অধিকারের সমন্বয়ে গঠিত। রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে বিএনপি কেন্দ্র থেকে মধ্য-ডানপন্থি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা পালন করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। এরপর এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক পালাবদলে দলটি কখনো সরকারে এবং কখনো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েও তারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রেখেছে। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি।
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবারই প্রথম দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি সম্পর্কে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। জিয়াউর রহমান দল প্রতিষ্ঠার পর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা পালন করে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপিকে শক্ত গণভিত্তির ওপর দাঁড় করান খালেদা জিয়া। আজকে তার ছেলে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার পতাকা নিয়ে তাদেরই দেখানো পথে একই সঙ্গে দল ও সরকার পরিচালনা করছেন। তিনি তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়া নেই তবে তার আদর্শ বুকে ধারণ করে আমরা বিএনপি ও সরকার পরিচালনা করব।’
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপিকে প্রতিবারই একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশের হাল ধরতে হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে ধ্বংস করেছে, সেখান থেকে দেশকে টেনে তোলাই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আর্থিক খাত সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘বেসরকারি খাতে বৈষম্য বাড়তে পারে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতের কোটি কোটি কর্মীর বেতনকাঠামোয় আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না। এতে প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি খাতের কর্মরত ব্যক্তিদের। বেসরকারি খাতের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধান আরও প্রকট হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই পে-স্কেলের প্রভাব এত বেশি পড়বে যে এতে করে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। তাহলে অন্যান্য খাতে প্রভাব পড়বে এবং বড় রকমের বৈষম্য তৈরি করবে।’ তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় বেসরকারি কর্মীদেরও মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। সেই মজুরি বৃদ্ধি করা কতটুকু সম্ভব? ইন্ডাস্ট্রি তো এমনিতে সংকটে রয়েছে। বর্তমান মজুরিই দিতে পারছে না। এখন বর্ধিত মজুরি দিতে পারবে কি না, এটা একটা বিষয়। এরপর হলো, সরকারি কর্মকর্তাদের মজুরি যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, এরপর যদি ঘুষ খাওয়াটা বন্ধ হয় তাতে আমরা আমরা সন্তুষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘বেতন স্কেল বেড়েছে, সরকার সরকারের লোকদের বেতন দেবে। কিন্তু সব তো আমাদের ট্যাক্সের টাকা থেকে দিতে হবে।’ তিনি মনে করেন, সরকারি বেতন বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের দাম আরেক দফা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির পারদ আরও চড়িয়ে দিতে পারে। এমনিতেই বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা ও উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের পক্ষে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগসুবিধা আপাতত বাড়ানো সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, দেশের মোট কর্মসংস্থানের মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ সরকারি খাতে। বাকি ৯৩ শতাংশেরও বেশি মানুষ বেসরকারি, করপোরেট ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। চার বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি (গড় ৯.৫ শতাংশের ওপরে) চলছে। এই সময়ে সরকারি কর্মীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট ও বিশেষ ভাতা পেলেও বেসরকারি খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক মন্দা ও উচ্চ সুদের কারণে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রেখেছে বা নামমাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখেছে। ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের পর বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ এবং বেসরকারি ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকায় নতুন তারল্য বাজারে চাপ বাড়াতে পারে।
বিবিএসের হিসাবে, চলতি বছরের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৪ শতাংশ। গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল। অথচ এপ্রিলে জাতীয় গড় মজুরি হার ছিল ৮.১৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বেড়েছে কম। দেশের কর্মসংস্থানের বেশির ভাগই যেখানে বেসরকারি খাতে, সেখানে দুই খাতের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার এই ফারাক সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে। জানতে চাইলে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘বেসরকারি খাত একটা খুব বাজে সময় পার করছে। তাই বেসরকারি খাতে যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে, তারা নিশ্চয় এটা অনুধাবনও করবেন যে এটা খুব ভালো সময় না। এখন বাজারে একটা প্রভাব পড়তে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হবে। যখন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়, সেই সময় জিনিসপত্র দাম বেড়ে যায়। এটা যাতে না হয় সরকারের এটা একটা বড় ধরনের মনিটরিং থাকা দরকার।’
