প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারির পদত্যাগ

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারির পদত্যাগ

ফন্ট সাইজ:

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা মার্কিন মার্কিন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের। এই উত্তেজনার জেরে তিনি হোয়াইট হাউসে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে দু’জনের মধ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হেগসেথের অধীনে পেন্টাগনের সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্রিসকল। তিনি পদত্যাগ করেছেন অথবা পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার পদত্যাগের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীতে রদবদল ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ড্রিসকল। বিশেষ করে এসব কার্যক্রম তদারক করা জেনারেলদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার পদত্যাগের বিষয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রথমে বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ড্রিসকলের মেয়াদের প্রশংসা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি ‘অত্যন্ত কার্যকর’ ভূমিকা রেখেছেন। এর মধ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনা, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও যুদ্ধক্ষমতা জোরদার করা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নেয়ার বিষয়ও রয়েছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেয়া ড্রিসকল সেনাবাহিনীকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে কম খরচের অস্ত্র সংগ্রহে সক্ষম করে তোলার পক্ষে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বড় বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য সমালোচনাও করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনায় অংশ নিতে ট্রাম্প তাকে মনোনীত করার পর ড্রিসকল আরও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সেনাবাহিনীর একজন সেক্রেটারিকে এমন কূটনৈতিক ভূমিকায় যুক্ত করা ছিল বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা। এপ্রিল মাসে হেগসেথ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার পর ড্রিসকলের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উত্তেজনা আরও তীব্র হয় বলে জানা গেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত ড্রিসকলকে বিস্মিত করেছিল এবং হেগসেথের প্রতি তার অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এরপর হেগসেথ ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তাকেও সরিয়ে দেন এবং সেনাবাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতিও ব্যক্তিগতভাবে আটকে দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে ড্রিসকলকে হুমকি হিসেবে দেখতেন হেগসেথ এবং তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ভাবনবিষয়ক দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ডেপুটি আন্ডারসেক্রেটারি ডেভ ফিটজেরাল্ডও পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ড্রিসকলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান প্যাট হ্যারিগান বলেছেন, তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি তৎপরতা এনেছেন, যেখানে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। হ্যারিগান বলেন, দেশের জন্য ড্যানের সেবা এখানেই শেষ হচ্ছে না।