রডের বদলে লোহার নেট

ফন্ট সাইজ:

চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চর কুকরি-মুকরির ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর স্বপ্নের সড়কে রডের পরিবর্তে লোহার নেট (তারের জাল) দিয়ে ঢালাই দেয়ার এক অভিনব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চর কুকরি- মুকরি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মনুরা বাজার পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে এমন অনিয়ম করায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরকারি নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, সিসি (Cement Concrete) বা আরসিসি (Reinforced Cement Concrete) ঢালাইয়ের সড়কে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিন্দিষ্ট মিলিমিটারের লোহার রড ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন এই কাজে রডের পরিবর্তে সস্তা লোহার নেট বা জিআই তারের নেট ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের এই কাজ নিয়মিত তদারকি করার কথা থাকলেও, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা টেকসই করার জন্য সরকারের এই প্রকল্পে প্রাক্কলিত বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছাদিকা আফিয়া ইসলাম, ভোলা ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুকরির ছোট খাল সংলগ্ন উপকূলীয় এই নিচু এলাকায় জোয়ার-ভাটার পানি ওঠানামা করে। রডের খাঁচা ছাড়া শুধু চিকন লোহার তারের নেট দিয়ে ঢালাই করলে ভারী যানবাহনের চাপে এবং নোনা পানির প্রভাবে রাস্তাটি কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন পর একটা পাকা রাস্তা পাচ্ছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার অতি মুনাফার লোভে আমাদের চোখের সামনে রড না দিয়ে তারের জালি বিছিয়ে তড়িঘড়ি করে ঢালাই দিয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর (খএঊউ) উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের তদারকি কর্মকর্তা (ঝ অ ঊ) মো. কিবরিয়া বলেন, সড়ক নির্মাণে শিডিউল মোতাবেগ হচ্ছে, এর বাইরে অন্য কোনো সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।