জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনি লড়াই করতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্যের আইনজীবী গ্রায়েম এল হল। তিনি শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাতেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য এ আবেদন করেছেন। বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন সালমান এফ রহমানের আইনজীবী আসিফুর রহমান। বলেন, লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের এই আইনজীবীর পক্ষে গত ১৪ই আগস্ট বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদনটি জমা দেয়া হয়। তবে আবেদনটি রিসিভ করা হয়েছে ২৪শে আগস্ট। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হবে কিনাÑ এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত বার কাউন্সিল জানায়নি বলে মন্তব্য করেন আইনজীবী আসিফুর রহমান।
তিনি বলেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে গ্রায়েম এল হল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি লড়াই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর তিনি যাবতীয় কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য ই-মেইলে পাঠান। আমরা সেটি বার কাউন্সিল সেক্রেটারি বরাবর দাখিল করি। বার কাউন্সিলের আবেদন গ্রহণসাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে গত ১১ই আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথমে একটি অনুমতি নেয়া হয়েছিল। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে সালমান এফ রহমানের পক্ষে কারাগার থেকে বার কাউন্সিলে আবেদন করা হয়। আইনজীবী আসিফুর বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১১ (৮)-এর বিধান উল্লেখ করে স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি বিদেশি আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়েছেন গ্রায়েম এল হল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ই ডিসেম্বর সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এই আবেদনের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার আসামিপক্ষকে বার কাউন্সিলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। গত বছরের ৪ঠা ডিসেম্বর সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে ১২ই জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং এরই মধ্যে ১১ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে জুলাই আন্দোলন দমনে ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া’ এবং ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই ফোনে কথা বলে রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রের’ কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের ধারাবাহিক ‘ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও উস্কানিতে ওই বছরের ২৩ এবং ২৮শে জুলাই মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের হত্যাযজ্ঞ চালানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই বছরের ৪ঠা আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতুসহ ১২ জনকে হত্যা এবং ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে আরও ১৬ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে।
