প্রতারক প্রেমিকের বিরুদ্ধে লাইভ করে সুমাইয়ার আত্মহত্যা

প্রতারক প্রেমিকের বিরুদ্ধে লাইভ করে সুমাইয়ার আত্মহত্যা

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারে লাইভে এসে আর্তনাদ করে প্রতারক প্রেমিকসহ শহরের আলোচিত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম বলে বিচার চাওয়ার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আত্মহত্যা পথ বেঁচে নিয়েছে সুমাইয়া আক্তার ওরফে ইশরাত নামের এক নারী। বেঁচে থাকতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন সুমাইয়া। প্রকাশ্যে লাইভে এসে বুকফাটা আর্তনাদ করেছিলেন। বিচার চেয়েছিলেন প্রতারক প্রেমিকসহ তার সহযোগীদের। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন। লাইভে অভিযোগ করার একদিন পরই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন সুমাইয়া। রোববার দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে। নিহত সুমাইয়া চৌফলদণ্ডীর সিকদার পাড়া এলাকার মৃত মোক্তার আহম্মদের মেয়ে।

সুমাইয়ার ৪ঠা আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে সাইফুল ইসলাম হৃদয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের ১০ই জানুয়ারি থেকে বিয়ের আশ্বাসে সাইফুল তাকে কক্সবাজার পৌরসভার গোলদীঘির পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাখেন। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতেন। একপর্যায়ে সুমাইয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য সাইফুল চাপ দিতে থাকেন এবং এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে থানায় দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন সুমাইয়া।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮শে জুলাই বিকালে কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়েও অনাগত সন্তান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। সন্তান নষ্ট করতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি দেয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাইফুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেছিলেন সুমাইয়া। থানায় অভিযোগ দেয়ার পাশাপাশি নিজের ওপর বয়ে যাওয়া অমানসিক যন্ত্রণা ও নির্যাতনের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেন সুমাইয়া। মৃত্যুর আগে স্থানীয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি মারধর, হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগ করেছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্য, শুধু ভালোবাসার মানুষটির কাছেই নয়, সামাজিক স্বীকৃতির আশায় সুমাইয়া বিভিন্নজনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এমনকি সাইফুলের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেখানেও অপমান ও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। সুমাইয়ার বড় বোনের দাবি, বিয়ের স্বীকৃতি ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন তার বোন। কিন্তু সেই আকুতির কোনো সমাধান হয়নি। সুমাইয়ার মৃত্যুর পর সাইফুল ইসলাম হৃদয় আত্মগোপনে রয়েছেন। তার সহযোগী শহরের শীর্ষ ত্রাস, হোটেল মোটেল জোনের আতঙ্ক কলাতলির সোহেল, বাহারছড়ার আরিফ ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। সুমাইয়ার স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু এবং মৃত্যুর নেপথ্যে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, তার রেখে যাওয়া অভিযোগ, ফেসবুক লাইভ, স্বজনদের বক্তব্য এবং মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে কাজ করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাড় দেয়া হবে না। ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।