জাল দলিলে মামলা

বাদীর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ফন্ট সাইজ:

জাল দলিল দিয়ে মামলা করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মামলার বাদীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। তাছাড়া মিথ্যা, ভুয়া ও ভিত্তিহীন মামলা করায় বাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মহিউদ্দিন নগর গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেন ২০ শতক ভূমির সাহাম প্রার্থনা এবং বিরোধপূর্ণ কয়েকটি খতিয়ান তার ওপর বাধ্যকর নয় মর্মে ঘোষণার দাবিতে ২০২২ সালের ১০ই মার্চ বণ্টন ও ঘোষণামূলক দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. নাজির হোসেনসহ মোট ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়। এটি বণ্টন ও ঘোষণামূলক মামলা হলেও মামলার মূল ভিত্তি ছিল ১০/০৫/১৯৩৩ তারিখের ২১০০ নং একটি সাফ-কবলা দলিল। দলিলের গ্রহীতা ছিলেন বাদী মো. মোশাররফ হোসেনের পিতা আব্দুল মজিদ এবং দাতা ছিলেন নগরবাসী কৈবত্য ও বনমালী কৈবত্য। দলিলে উল্লিখিত ভূমির পরিমাণ ১১২ শতক। বাদীর দাবির ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত দলিলটি প্রায় ৯২-৯৩ বছরের পুরনো হওয়া সত্ত্বেও দলিলের লেখার ফ্রেশনেস এবং বিবাদীপক্ষ কর্তৃক দলিলটি জাল, ভুয়া ও ভিত্তিহীন মর্মে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত দলিলটির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ উদ্দেশ্যে সিআইডি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দলিলটির টিপসই এবং দলিলে বর্ণিত লেখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অভিমত গ্রহণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞ অভিমতসহ মামলার সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং উভয়পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালতের নিকট দলিলটি জাল, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সোমবার মামলাটি খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে মিথ্যা, ভুয়া ও ভিত্তিহীন মামলা করে বিবাদীপক্ষকে হয়রানি করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রায়ে বাদীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আগামী ২০ দিনের মধ্যে জরিমানার এই টাকা বিবাদীগণকে প্রদান করার জন্য বাদীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বাদীর এই কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বয়ং আদালত কর্তৃক বাদী মো. মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য সংশ্লিষ্ট সেরেস্তাদারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।