সিলেট নগরের রায়নগরে ভূমি-সংক্রান্ত মামলার বাদী ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি। সোমবার সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেনÑ কমিটির সমন্বয়ক মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ই আগস্ট রায়নগরের ১১১ মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। আবদুস সাত্তার পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে লিজ নেয়া জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মামলার বাদী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিআর ০২/২০২১ নম্বর মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, রিকাবীবাজারের ইম্পালস টাওয়ার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ভূমি নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে বিরোধ চলছে। আবদুস সাত্তার ও তার পরিবার ওই ভূমির একটি অংশ লিজ নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে ইম্পালসের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভূমি বিরোধের জেরে আবদুস সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল। ১৮ই মে ২০২৫ আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনায় আবদুস সাত্তার ও তৌহিদুল ইসলাম আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। হুমকির বিষয়ে সাত্তারের পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের নামে করা সাফকবলা দলিল ওর লিজ দলিলের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। ওই মামলায় অতিরিক্ত যুগ্ম জেলা জজ আদালত দলিল দু’টি অকার্যকর ঘোষণা করেন। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে করা ফার্স্ট আপিল হাইকোর্ট বিভাগ খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। এছাড়া নামজারি রিভিউ মামলার রায়ে ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের নামে থাকা নামজারি বাতিল করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির নামে নামজারি বহাল করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিরোধপূর্ণ ভূমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে মামলা করা হয়েছিল। তবে মামলা বিচারাধীন থাকায় এর কার্যক্রম স্থগিত ছিল। ২৮শে জুলাই ২০২৬ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে মামলাটি বিনা বিচারে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর স্থগিত ভূমি মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কর্তৃক দেয়া একটি আদেশকে বেআইনি দাবি করে তা বাতিলের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন এবং একই বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করা, তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ইম্পালস টাওয়ার-সংক্রান্ত ভূমির নথি যাচাই এবং জাল দলিল ও অবৈধ দখলের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লিজগ্রহীতা নাজমুল ইসলাম, শামছুল ইসলাম শাহীন ও সোহেল আহমদ।
