কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা শহরের ধর্মপুর এলাকায় অবস্থিত কলেজের ডিগ্রি ও অনার্স শাখার প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আছেন- সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি উমর ফারুকের (মানিক) অনুসারী শাকিল ও প্রতাপ এবং কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুকের অনুসারী তালহা জোবায়ের ও রায়হান।
এ ছাড়া, সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানও আহত হয়েছেন। গত রোববার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর থেকে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে উমর ফারুককে সভাপতি এবং ফাতিন ইসলাম মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটির অন্য পদগুলোতে রয়েছেনÑ সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন (নাঈম), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান ইকবাল সাদ। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনক্রমে দেয়া ওই চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগÑ সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক সভাপতি পদপ্রার্থী এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু তাদের প্রত্যাশিত পদ না দিয়ে তুলনামূলকভাবে নিচের পদে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়।
সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চলছিল। এ সময় পরিকল্পিতভাবে তারা হামলা চালিয়েছে। আমরা এসে দেখি আমাদের ছোট ভাইদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এগিয়ে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। হামলার সঙ্গে বহিরাগতরাও জড়িত।’ তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি উমর ফারুক ওরফে মানিক। তার ভাষ্য, তারা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। উমর ফারুক (মানিক) বলেন, ‘আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাদের বলেছিলেন, এখন আজান হচ্ছে, মিছিল বন্ধ করতে। বন্ধ করতে বলায় তারা ভুল বুঝে আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে আমার দুইজন কর্মী আহত হয়েছে।’
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তারা কলেজে গিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করেছেন। নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় কলেজে অনেক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার কথা জানানো হয়েছে। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।
