জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য: রিজভী

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য: রিজভী

ফন্ট সাইজ:

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাতে এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে বিএনপি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা বিএনপির অঙ্গীকার। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতেও বিএনপি সরকার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, বৈষম্য ও সামাজিক অনাচার দূর করে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য তারেক রহমানের সার্বিক পরিকল্পনা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪৮ বছর আগে এই দিনে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বীর রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
রিজভী বলেন, দেশ ও জাতির চরম সংকটকালে দুঃশাসনের বাতাবরণের মধ্যে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়ার সহধর্মিনী, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রতি জানাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব নেতাকর্মী দলের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতিও জানাই গভীর শ্রদ্ধা। এই শুভদিনে আমি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপির মূল আদর্শ। বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন শহীদ জিয়া প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচি দলের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশী পরিচয়’কে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মহান দিনে আমি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গণতন্ত্রের পথচলা অব্যাহত রাখা ও জনগণের অধিকার স্বেচ্ছাচারী কোন শক্তি আর যেন কখনোই কেউ হরণ করতে না পারে, সেজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে তাতে জনগণের প্রত্যাশা পুরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমি তার সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে বিএনপি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সবসময় তাদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছে। বিএনপি রাষ্ট্রের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং নারী ও শিশুসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএনপি কখনোই পিছপা হবে না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভদিনে আমি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।