ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগ মুহূর্তে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির ৩৫টিরও বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও গুদামে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এর ফলে চলতি বছর ইউক্রেনে মুদ্রিত মোট বইয়ের এক-তৃতীয়াংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত কনভি প্রকাশনা সংস্থার বাণিজ্যিক পরিচালক ভিক্টোরিয়া হাইদাই জানান, দেশটির মোট স্কুল পাঠ্যবইয়ের ১০ ভাগ অর্থাৎ ১৩ লাখ বই সরবরাহের কাজ চলার সময় রাতে তাদের ছাপাখানায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর ফলে সবকিছু আগুনে পুড়ে ও ফায়ার সার্ভিসের পানিতে ভিজে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনকে একটি জাতি হিসেবে মুছে ফেলার লক্ষ্যেই রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে প্রকাশনা খাতকে নিশানা বানাচ্ছে।
হামলার শিকার হয়েছে কিয়েভের প্রাচীন পোচাইনা পুরোনো বইয়ের বাজারও, যেখানে শত শত স্টল ও মূল্যবান বই পুড়ে গেছে। এছাড়া ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মনাস্ট্রির ডরমিশন ক্যাথেড্রাল রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মেরামতে খরচ হবে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ডলার। ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তাতিয়ানা বেরেঝনা বলেন, রাশিয়া তাদের ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ঐতিহ্য এবং ২ হাজারেরও বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। তিনি বিষয়টিকে ইউক্রেনীয় অস্তিত্ব বিলীন করার যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ইউক্রেন সরকার নিজেই তাদের সাংস্কৃতিক নিদর্শন ধ্বংস করছে এবং সামরিক স্থাপনা লুকানোর জন্য এগুলো ব্যবহার করছে। পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার কথা অস্বীকার করে আসছে মস্কো।
