স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার কারণে যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই হয়তো আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হবে না। নতুন এক গবেষণায় এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার কারণে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া হাজারও রোগীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, স্তন ক্যানসারের কিছু চিকিৎসা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ওষুধ দেয়া হয়। বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত নতুন এই গবেষণায় চারটি হাসপাতালের ৯০ জন নারী অংশ নেন। এসব নারীর স্তন ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসার পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগের বয়স ৪০ ও ৫০-এর কোঠায়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার কমে যেতে পারে- এই আশঙ্কায় তাদের সাধারণত আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়া হতো। তবে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যেসব নারী ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেছিলেন, তাদের ৯৮ শতাংশের এক বছর পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মাত্র একজন নারীর হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধ বন্ধ করা নারীরা তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শার্লট ম্যানিস্টি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হার্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অসাধারণ সাফল্যের গল্প। তবে এসব ওষুধের কারণে হৃদযন্ত্রের যে ক্ষতি হতে পারে, তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী ও চিকিৎসকদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার চিকিৎসা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার হয়েছে, তাদের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা প্রতিরোধের ওষুধ নিরাপদে বন্ধ করা যেতে পারে। তার ভাষায়, আমরা আশা করি, এই ফলাফল রোগী ও তাদের চিকিৎসকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা থেকে মুক্ত একটি জীবনের আশা তৈরি করবে। হার্টফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা লুসি শেফার্ডও গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, গবেষণায় অংশ নেয়ার পর তিনি নিজেকে শক্তিশালী মনে করছেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারব- এমন আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সের পর শেফার্ডের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার সময় করা পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ক্যানসারের চিকিৎসার আরেকটি ধাপ শুরু করার আগে তাকে হৃদযন্ত্রের ওষুধ দেয়া হয়। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী শেফার্ড বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা কঠিন ছিল। কারণ, হৃদযন্ত্রের ওষুধ আমার বন্ধ করা উচিত নাকি চালিয়ে যাওয়া উচিত- এ বিষয়ে কেউ আমাকে নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, গবেষণার অংশ হতে পেরে এবং হৃদযন্ত্রের ওষুধ বন্ধ করার সুযোগ পাওয়ায় আমার জীবন নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে। আমি এখনো হরমোন থেরাপি নিচ্ছি। কিন্তু আগের মতো ভয় নিয়ে বেঁচে নেই। এটি আমাকে আবার নিজের শরীরের ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করেছে। গবেষণায় অংশ নেয়া নারীদের আগামী পাঁচ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যাতে তাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, হাজারও স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা নারীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হবে। গবেষণার ফলাফল আশা জাগাচ্ছে যে, হৃদযন্ত্র সুস্থ হয়ে ওঠার পর অনেক নারী নিরাপদে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং এসব নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে এই ফলাফল স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা এই নারীদের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর।
স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জন্য সুখবর
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
২ ঘন্টা আগে
৩১ আগস্ট (সোমবার), ২০২৬, ১২ঃ২৯ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
