দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি বা ডিভোর্স হলেও ব্যাংক থেকে নেয়া যৌথ ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে তীব্র জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে যে লোন নেয়া হয় তার বাকি কিস্তি বা ইএমআই কে পরিশোধ করবে এবং ঋণের বদলে যে সম্পত্তি তা কার হাতে যাবে সেটি অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন এনডিটিভি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভোর্সের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ব্যক্তিগত চুক্তির নিষ্পত্তি হলেও ঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকা চুক্তির কোনো
পরিবর্তন ঘটে না। যদি ঋণচুক্তিতে উভয়কে যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী করা হয়, তবে ব্যাংক যেকোনো একজনের কাছ থেকেই সম্পূর্ণ বকেয়া অর্থ আদায় করার অধিকার রাখে। এমনকি আদালত যদি স্বামী বা স্ত্রীর যেকোনো একজনকে কিস্তি পরিশোধের নির্দেশও দেয়, তবুও কিস্তি বন্ধ হলে ব্যাংক অপর পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। আয়কর বিশেষজ্ঞ অনিতা বাসরুর জানান, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সমঝোতা ব্যাংককে দায়মুক্ত করে না। ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ পুনর্গঠন বা অব্যাহতি না দেয়া পর্যন্ত উভয়কেই বকেয়ার জন্য দায়ী থাকতে হবে এবং কিস্তি বকেয়া পড়লে দুজনেরই ক্রেডিট স্কোর বা আর্থিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও স্পষ্ট করেছেন যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা আর সম্পত্তির প্রকৃত মালিক হওয়া দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। যৌথ ঋণগ্রহীতা হলেই সম্পত্তিতে সমান মালিকানা নিশ্চিত হয় না, বরং এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে নিবন্ধিত দলিলের ওপর। যদি কোনো এক পক্ষ পুরো বাড়ির একক মালিকানা নিতে চায়, তবে যথাযথ স্ট্যাম্প ডিউটি ও নিবন্ধনের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর করতে হবে।
পাশাপাশি সম্পত্তিতে আইনি নাম না থাকলেও গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধ আইনের আওতায় নারীর সেখানে বসবাসের আইনি অধিকার বহাল থাকতে পারে।
বিচ্ছেদের পর সম্পত্তি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে প্রথমে ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পরিশোধ করতে হয়। বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে ব্যাংকের পাওনা মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ নিবন্ধিত মালিকানার আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। পরবর্তীতে এই অর্থ পাওয়ার ওপর উভয় পক্ষকেই মূলধনি লাভ কর বা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। তাই আর্থিক ক্ষতি ও আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে শুরু থেকেই মালিকানার সঠিক অংশ নথিভুক্ত রাখা, মৌখিক সমঝোতার ওপর নির্ভর না করা এবং নাম বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র নেয়া অত্যন্ত জরুরি।
