রাজবাড়ী বড় বাজারে জাকিয়া সুলতানা নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তাকে পুলিশের সামনেই লাঞ্ছিত করা হয়েছে। রাজবাড়ী কল্যাণ সমিতিতে অভিযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যুবক তাকে উপর্যুপরি লাথি মারে। শনিবারের এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। জাকিয়ার অভিযোগ, ঘটনার পর তার কাপড়ের দোকানটি বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পান্না চত্বর থেকে জাকিয়া সুলতানার নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জন নারী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ১ নম্বর রেলগেট প্রদক্ষিণ করে বড় বাজারের কাপড় বাজারের কাদেরিয়া মার্কেটে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, কাদেরিয়া মার্কেটের ‘বস্ত্র বিতান’-এর মালিক ও বস্ত্র বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি আজিজ মণ্ডল, ‘রিমঝিম বুটিক’-এর মালিক খন্দকার আমিরুল এবং ‘ড্রিম ফ্যাশন’-এর মালিক কাজী নিয়ামুল হক তাকে হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই ওই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশে জাকিয়া সুলতানা কাদেরিয়া মার্কেটে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী তার ওপর চড়াও হয়ে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন যুবক পুলিশের সামনেই তাকে লাথি মারে।
অন্যদিকে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জাকিয়া সুলতানা বাজারে দোকান নেয়ার পর থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। তারা দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহানা পারভীন বৃষ্টি চাকরি ছেড়ে একই বাজারে নিজে একটি দোকান খোলার পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। বৃষ্টির দোকান বন্ধ করে দেয়ার জন্য জাকিয়া সুলতানা বস্ত্র বাজার কমিটির সভাপতি আজিজ মণ্ডলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলেও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী জাকিয়াকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বলে তারা জানান।
তবে জাকিয়া সুলতানার ভাষ্য, তার প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব না দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়ে তিনি রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়কের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই তাকে ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেয়া হচ্ছিল। তার অভিযোগ, গত ২৩শে আগস্ট বৃষ্টিসহ ১৫-২০ জন তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। জাকিয়া অভিযোগ করেন, শনিবার কয়েকশ’ লোক তার দোকানে গিয়ে তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন। পুলিশ তাকে থানায় নেয়ার সময় পথে কয়েকজন যুবক লাথি মারে। ঘটনার পর তার ‘আস্থা পোশাক শিল্প’-এর কাপড়ের দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিকের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলার ২৬টি সাব- সেন্টারের মাধ্যমে এসব শ্রমিক তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেন জাকিয়া। অপরদিকে ঘটনার পর কাদেরিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে জাকিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল নিয়ে সদর থানায় যান। তারা থানায় অভিযোগও দেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
