‘আবদুস সালামের মতো সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন’

‘আবদুস সালামের মতো সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন’

ফন্ট সাইজ:

‘গদি মিডিয়া’ নয়, আবদুস সালামের মতো সাহসী, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের অনুগত হয়ে নয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েই সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। সাংবাদিক আবদুস সালামের জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। গতকাল পিআইবি’র প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক এবং পাকিস্তান অবজারভার ও বাংলাদেশ অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রথম জীবনে তিনি অত্যন্ত লাভজনক একটি সরকারি চাকরিতে ছিলেন। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে তিনি সাংবাদিকতায় এসেছিলেন।

তিনি বলেন, খুশবন্ত সিংয়ের একটি উপন্যাসে পড়েছিলাম-‘ফ্রিডম ইজ ফর দ্য এডুকেটেড পিপল হু ফট ফর ইট।’ অর্থাৎ স্বাধীনতা তাদের জন্য, যারা শিক্ষিত এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেন। আমার মনে হয়েছে, এই কথাটি আবদুস সালামের জন্য অত্যন্ত প্রযোজ্য। তার পুরো জীবন আলোচনা করলে আমরা দেখতে পাবো, তিনি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।
রিজভী বলেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আবদুস সালামের জীবনের একটি চমৎকার মিল খুঁজে পাই। কাজী নজরুল কবি হিসেবে যেমন প্রখ্যাত, তেমনি তিনি সাংবাদিকও ছিলেন। আবদুস সালামও সাংবাদিক ছিলেন। দু’জনই জেল খেটেছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন। দু’জনই তাদের লেখনীর জন্য কর্তৃত্ববাদী ও কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের সমালোচনা গ্রহণ করা উচিত। সরকার সমালোচনা গ্রহণ করতে করতে কতোটা উদার হয়েছে, তার একটি উদাহরণ দিই। সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিষ্ঠান আমাদের সামনে যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে ১৮০টি বড় ধরনের অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের একটি বড় অংশ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫৭টি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অনেক অপতথ্য প্রচারিত হয়েছে। ঘটনাচক্রে সেই তালিকার উপরের দিকেই আমার অবস্থান আছে। অথচ আমি সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, প্রতিটি সেক্টরে আলোকবর্তিকার মতো বাতিঘর পুরুষ কিছু থেকে যান। তাদের কেন্দ্র করেই পরবর্তী পথ চলে। গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার মধ্যে অবক্ষয় দেখেছি। যারা নিজেদের দায়িত্ব, সম্মান খুইয়েছেন। নিজের সুযোগ-সুবিধার জন্য সাংবাদিকতার সম্মানে নামটি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। কিছু সাংবাদিক আছেন সমাজের প্রয়োজনে জাতির প্রয়োজনে রুখে দাঁড়িয়েছে।
সিপিডি’র ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দৃশ্যমান অবদানের চেয়ে অদৃশ্য অবদান মনে রাখতে হবে সাংবাদিক আবদুস সালামের। সাহসী ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। সমালোচনা হবে, গঠনমূলক সমালোচনা হবে। এটাকে ধরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, আবদুস সালামের সাংবাদিকতার কমিটমেন্ট ঠিক ছিল। আমরা তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারিনি।
বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, মাঝে মাঝে সম্পাদকদের অসহায় আত্মসমর্পণে সাংবাদিকতার পথ হারায়। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে সাংবাদিক আবদুস সালামের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। গণমাধ্যমকে প্রকৃত অর্থে ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করতে হবে।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক বলেন, নানা সংকট, ঝড়-ঝঞ্জা কাটিয়ে সাংবাদিকতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। প্রতিটি সচেতন মানুষের রাজনীতি মনস্ক মানুষ হতে হয়।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, সাংবাদিকতা পেশা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। তোপখানা রোডের নাম সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে নামকরণের প্রস্তাব জানাচ্ছি।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু, পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম।