ভৈরবে বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে ফের রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়।
রোববার দুপুরে টানা দুই ঘণ্টা উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব সার্কেল সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ। এ নিউজ লেখা পর্যন্ত আহতদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নজরুল মিয়া (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০), স্বপন মিয়া (২৮) চিকিৎসা নেন। বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ আগে ২৭শে জুলাই ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ দখল করে দুই গ্রামবাসী। জেলা পুলিশ, ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের সদস্যরাসহ ভৈরব ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশ সদস্যরা সাড়ে ৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। ওইদিন টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৩৭) ও হিরণ মিয়া (৩২) নামের দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহত মাসুদ মিয়া মিরারচর গ্রামের ব্যাপারী বাড়ির আসাদ মিয়ার ছেলে ও হিরণ মিয়া একই গ্রামের মোল্লা বাড়ির ফজলু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টায় মিরারচর গ্রামের যুবকরা বাজারে গেলে আকবর নগর গ্রামের যুবকরা আটক করে মারধর করে। পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে দুই পক্ষ ইটপাটকেল, লাঠিসোটা, দা, বল্লম ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ, র্যাবসহ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামসহ বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে মিরারচর গ্রামের খলিল মিয়া বলেন, এক মাস আগে আমাদের পক্ষের দুইজনকে হত্যা করেছে আকবরনগর পক্ষের লোকজন। আজকে আমাদের এলাকার দুইটা ছেলেকে মারধর করেছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা করে। আমরাও প্রতিহত করি।
আকবর নগর গ্রামের সামাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পক্ষের লোকজন কিশোরগঞ্জে আদালতে জামিনের জন্য গেলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়। এই খবরে মিরারচর গ্রামের লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। আমরা প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামের ভাষ্য, বাজারের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল দুই গ্রামবাসীর। মাসখানেক আগে এ ঘটনায় সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের দুইজন যুবকও খুন হয়েছে। অপরদিকে মিরারচর গ্রামের মানুষ আকবরনগরের বেশকিছু বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে পুড়িয়ে দিয়েছে। রোববার দুপুরে একই ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ হলে আমরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে সহযোগিতা করি। আমরা চাই আইনগতভাবে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক। আমরা চাই দুই গ্রামবাসী শান্ত থাকুক।
এ বিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বাজারের নামকরণ নিয়ে আবারো দুই গ্রামবাসী আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ ও ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ইদানীং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। যা দুঃখজনক। তবে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
