বগুড়া অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই শস্যবিন্যাস নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘বগুড়া অঞ্চল উপযোগী বিনা উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিসমূহ বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে অন্তর্ভুক্তিকরণ’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), উপকেন্দ্র, ঈশ্বরদী, পাবনা। কর্মশালাটিতে অর্থায়ন করে ‘বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, বিনা, ময়মনসিংহ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিনা উপকেন্দ্র, ঈশ্বরদীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. ফেরদৌস ইকবাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদান অনস্বীকার্য। বগুড়া অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী বিনা’র আধুনিক উচ্চফলনশীল জাত এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগুলো মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে। কৃষকদের কাছে এসব প্রযুক্তি সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারলে এবং বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের সার্বিক কৃষি উৎপাদনে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।
কর্মশালায় ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। স্বাগত বক্তব্য দেন বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (গবেষণা) ড. মো. মোকতার হোসেন, বিনা ময়মনসিংহের পরিচালক (প্রশাসন ও সাপোর্ট সার্ভিস) ড. মো. লুৎফর রহমান মোল্যা, প্রাক্তন গবেষণা সমন্বয়ক ড. মো. মুনজুরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান, ঈশ্বরদী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ মো. মতলুবর রহমান এবং বিনা ময়মনসিংহের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের সিএসও ও বিভাগীয় প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন।
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিনা ধানের সফল চাষি, স্থানীয় সারের ডিলার, কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কৃষকেরা বিনা উদ্ভাবিত স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চফলনশীল ধান চাষের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং বীজ প্রাপ্তি সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে বিনার প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
