শাকিব খান। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করছেন দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে। শাকিব খান নাম শুনলেই একটা সময় হাউজফুল হতো দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো। এখনো তার তুলনা কেবল তিনিই। তার পরবর্তীতে এমন কোনো নায়ক এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক সফলতার কারিশমা দেখাতে পারেননি। মাঝে ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন এলেও নিজেকে সামলে ঠিক করোনা-পরবর্তী সময়ে গুছিয়ে নিয়েছেন শাকিব। একের পর এক ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’, ‘রাজকুমার’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’র মতো সিনেমা উপহার দিয়েছেন। এসব ছবিতে অভিনয়ে কিংবা লুকে যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন শাকিব। তবে পর পর বেশ কয়েকটি সিনেমা ব্যবসাসফল হওয়ার পর চলতি বছর এসে মোড় অনেকটা ঘুরে যায়। বদলে যায় দৃশ্যপট! পর পর দুই ঈদে শাকিব খানের দুই সিনেমা সফলতার মুখ দেখেনি।
এমনকি দর্শকদের মাঝেও তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। রোজার ঈদে মুক্তি পায় তার নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স’। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এ ছবি মুক্তির পর পরই মুখ থুবড়ে পড়ে। এ ছবির মাধ্যমে হলগুলোতে শাকিব আধিপত্য বিস্তার করতে পারেননি। বরঞ্চ নিজ কাঁধেই ছবিটির ব্যর্থতার দায় নিতে দেখা যায় ঢালিউড কিং-কে। ধারণা করা হচ্ছিল, পরের ছবির মাধ্যমে হয়তো ঘুরে দাঁড়াবেন শাকিব। কিন্তু কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রকস্টার’র মাধ্যমে সেই হিসাব মেলেনি। এ ছবিতে প্রথমবারের মতো একজন রকস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এ ছবিটিও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এমনকি সিঙ্গেল হলগুলোতেও তেমন চলেনি।
এই যখন অবস্থা, তখন প্রশ্ন হলো শাকিব এবার কী করবেন? এরইমধ্যে ঈদের বাইরে তার মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘সোলজার’ মুক্তির কথা থাকলেও একাধিকবার পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছবিটির মুক্তির তারিখ অনিশ্চিত। অন্যদিকে, শাকিবের পরবর্তী ছবি হলো মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘নিঃস্ব্ব’। এই ছবিটি আসছে ঈদে প্রকাশের আলোচনা চলছে। এর বাইরে নতুন কোনো ছবিতে শাকিবের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সংবাদ মেলেনি। তার সবশেষ দু’টি ছবি নতুন পরিচালকদের সঙ্গে করলেও জানা গেছে, পরীক্ষিত পরিচালকদের প্রতিই এখন নির্ভর করতে চাচ্ছেন তিনি। এরইমধ্যে কয়েক দফা মিটিংও সেরেছেন তিনি। এবার খুব বুঝেশুনে ছবিও নির্বাচন করছেন শাকিব।
