বড়লেখায় ৫ দফা দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

বড়লেখায় ৫ দফা দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা। একইসঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তারা। রোববার উপজেলার দক্ষিণগুল চা-বাগানের চা শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক শ্রমিক বাগানের কাজ বন্ধ রেখে এতে অংশ নেন। পরে তারা কাজে ফিরে যান। সকালে দক্ষিণগুল চা-বাগানের ভৈরবতলী ব্রিজ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। মিছিলটি বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফ্যাক্টরির সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফ্যাক্টরির সামনে পথসভা করেন শ্রমিকরা।

বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি রমন চন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন- কমিটির সহ-সভাপতি পার্বতী ফুলমালী, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক যোগল ফুলমালী এবং চা শ্রমিক সুমন ঘোষ ও নয়ন মৃধা। পথসভায় শ্রমিকরা বলেন, আমরা কী কষ্টে আছি, তা আমরাই জানি। দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জীবনযাপন করছি। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাগানে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। বাগানে চিকিৎসকও নেই। অসুস্থ হলে শ্রমিকদের নিজেদের খরচে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শ্রমিকরা বলেন, বাগানের অনেক শ্রমিকের বসতঘর সংস্কারের প্রয়োজন হলেও মালিকপক্ষ থেকে ঘর সংস্কার করে দেয়া হয়নি।

বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে ঘর মেরামত করছেন। বাগানের রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল। সমাবেশে শ্রমিকরা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনাসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়েও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে বক্তারা জানান। তাদের দাবি- শ্রম অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত এবং ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহার করতে হবে।