গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিকেরমাঠ-শ্রীরামকান্দি সড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কাজ চললেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আমিনুল শেখ সড়কের পাশের সরকারি জায়গায় পাকা দোকানঘর নির্মাণ করছেন। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সরকারি জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে ভবিষ্যতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সড়কের পাশের সরকারি জায়গা নয়, একই এলাকায় রাস্তার বিপরীত পাশে অবস্থিত আদর্শ গ্রামের পুকুরের জায়গা দখল করে একাধিক পাকা দোকান নির্মাণ ও সেগুলো ভাড়া দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা পুকুরে ফেলার কারণে পানি দূষিত হচ্ছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, সরকারি জায়গা ও জনসাধারণের ব্যবহারের পুকুর এভাবে ধীরে ধীরে দখল হতে থাকলে ভবিষ্যতে দখলের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের চলাচল ও পরিবেশ সুরক্ষাও হুমকির মুখে পড়বে। বিষয়টি দ্রুত সরজমিন তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ হয়ে থাকলে তা উচ্ছেদ এবং পুকুরটি দখলমুক্ত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। একইসঙ্গে সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম মুঠোফোনে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল শেখ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ঘর স্থাপন করে ব্যবসা করে আসছি। আগে কাঁচা ঘর ছিল। সেটি ভেঙে নতুন করে পাকা স্থাপনা তৈরি করছি। তবে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বৈধ অনুমোদন কিংবা জায়গাটির মালিকানার বিষয়ে আমিনুল শেখ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা কাগজপত্রের কথা জানাননি।
