রংপুরে ১০ দিনে ৬ হত্যাকাণ্ড আতঙ্কিত মানুষ

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে গলা কেটে আরও একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে গত ১০ দিনে ৬ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে রংপুরবাসী। দ্রুত কঠোর নজরদারি ও পুলিশি টহল বাড়িয়ে এ উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দাবি সাধারণ মানুষের।
জানা যায়, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের কাউয়াফান্দা এলাকায় এক পুলিশ সদস্যের বাড়ির সামনে থেকে মোকলেছুর রহমানের (৫৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস এলাকার বাসিন্দা। পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির কাজকর্ম শেষ করে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হন মোকলেছুর। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এক পথচারী ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির
বাতির আলোয় বাড়ির সামনে একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি ছটফট করছিলেন। বাড়ির গেটেও রক্তের ছাপ দেখতে পান ওই ব্যক্তি। তার চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। নিহত মোকলেছুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার বাবাকে অটো ছিনতাইয়ের কারণে হত্যা করা হয় নাই। আমার বাবাকে জমি সংক্রান্ত জেরে হত্যা করেছে।’ এদিকে, গত ২২শে আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ (প্রিয়ম) চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ১৬৪ ধারায় আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতে মোট ৮ থেকে ৯টি ইয়াবা সেবন করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। ভোরে ইয়াবা সেবনকালে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেললে শিক্ষক গণপতির কাঁধে থাকা গামছা গলায় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এরপর একই কৌশলে একে একে প্রীতিলতা, আগামী ও আয়ুশকে হত্যা করে তারা। অন্যদিকে, এই চার খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে রংপুরে। ২৩শে আগস্ট রাত ১১টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার চরচতুরা এলাকায় আবু বকর সিদ্দিক নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশের ধারণা, পরকীয়া প্রেমের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় মামলা করলে পরকীয়া প্রেমিকা ও তার স্বামীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসকল হত্যাকাণ্ড ছাড়াও এ কয়েকদিনে একাধিক ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. পলাশ কান্তি নাগ বলেন, রংপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুলিশ রংপুরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। দ্রুত টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে এ পরিস্থিতি থেকে রংপুরকে উত্তরণের দাবি জানাচ্ছি।