বাঁশের সাঁকোয় পার হতে হয় কোটি টাকার ব্রিজ

বাঁশের সাঁকোয় পার হতে হয় কোটি টাকার ব্রিজ

ফন্ট সাইজ:

ব্রিজ আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। তাই কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা সেতু নির্মাণের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দেওভোগ গ্রামের দহপাড়া এলাকার মানুষ। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, দহপাড়া খালের উপর নির্মিত সেতুটি দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারও মানুষ এই পথে চলাচল করেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এই সেতুটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।

সরজমিন দেখা যায়, গুমানী নদী থেকে একটি খাল বের হয়ে চলনবিলের দিকে চলে গেছে। খালটি দুই পাশের গ্রামগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা সেতু। সেতুর পূর্ব পাশে রয়েছে দহপাড়া, দেওভোগ ও বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রাম; দহপাড়া জামে মসজিদ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। পশ্চিম পাশে রয়েছে দহপাড়া ও দেওভোগ গ্রামের বাকি অংশ, লক্ষ্মীকোল গ্রামসহ একাধিক জনবসতি। পশ্চিম পাশে রয়েছে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো বানিয়েছেন। ওই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের পর ভেবেছিলেন দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ সংশোধন করে ২০২৬ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। বি এল বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রিপন বলেন, জনস্বার্থে অনতিবিলম্বে ব্রিজটি নির্মাণসম্পন্ন করা দরকার। এদিকে দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ সম্পন্ন না করার ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মানিকুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।