আমরা ফ্যাসিবাদী হাসিনার মতো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে গুমের সংস্কৃতি চালু করবো না

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরা ফ্যাসিবাদী হাসিনার মতো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে গুমের সংস্কৃতি চালু করবো না

ফন্ট সাইজ:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দায়িত্ব পালন করছি। আমরা ক্ষমতা বলি না। আগামীকাল অন্য কেউ আসবেন। সেই গণতান্ত্রিক ধারাই তো আমরা বিশ্বাস করি। আমরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চিরস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য গুমের সংস্কৃতি চালু করিনি। করবো না। এ দেশে কাউকে করতে দেয়াও হবে না।’

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পাশে জুলাই যাদুঘর আছে। শাসকদেরকে সবসময় সেটা ভিজিট করে আসতে বলব। যারাই শাসন ক্ষমতায় আসবেন। ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে ফ্যাসিবাদীদের কী পরিণতি হয় দেখে আসবেন। ঘুরে আসবেন, সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই। যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য, যেই ধারার জন্য আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে এই জাতি বসে আছে, আসমান সমপ্রত্যাশা নিয়ে আমাদের জাতি বসে আছে, হয়তো আমরা পুরো প্রত্যাশা এই পাঁচ বছর পূরণ করতে পারবো না। কিন্তু এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আরও সরকার আসবে। তারা জনচাহিদা, জনপ্রত্যাশা অনুসারে সমাজের চাহিদা অনুসারে সবসময় আইন সংশোধন করবে। পরিবর্তন করবে। নতুন আইন নিয়ে আসবে, সমাজের চাহিদা পূরণ করবে।’

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকেও সংসদে আহ্বান করব, আপনারা সকল বিষয়ে অংশগ্রহণ করুন। ওয়াকআউট কোনো সলিউশন নয়। এটা একটা প্রতিবাদ। সেটা করারও বিভিন্ন নিয়ম আছে। আপনারা বিল উত্থাপনের সময় বক্তৃতা দিয়ে বিরোধিতা করে ওয়াকআউট করতে পারতেন! আপনারা এখন সংসদীয় কমিটিতে, স্থায়ী কমিটিতে। আমরা বিলগুলো নিয়ে এসছি। সেখানে আলাপ আলোচনা করবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি আজ গুম হওয়া, গুমের শিকার সালাউদ্দিন হিসেবে কথা বলছি। হুম্মাম কাদের বলে গেছেন কাল। আমি অনুষ্ঠানে তিন ধরনের কথা বলেছি। প্রথমে আমি গুমের শিকার হিসেবে কথা বলেছি। তারপরে গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কথা বলেছি। এরপর রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে কথা বলেছি। বলারই তো কথা! আমরা যদি আরও হিসাব দেই—জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বাংলাদেশে তদন্ত করেছে, তারা ১৪০০’র মতো শহীদের তালিকা পেয়েছে। তাও যেটা রেকর্ডেড হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল এবং পত্রিকায় ও বিভিন্ন মিডিয়ায়। আমাদের হিসাব সেটা তো ২০০০-এর বেশি।’

তিনি বলেন, ‘স্বজনরা এখন কবরের সন্ধান করে। আমরা দিতে পারি না। লাশ গায়েব করা হয়েছে, পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। হাসপাতালের রেকর্ড গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সেরকম একটা ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী শাসনামলের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি। কিন্তু সেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নাই। সেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কোনোরকমের অনুতাপ নাই। দুঃখ প্রকাশ তো দূরের কথা! উল্টো জুলাই গণঅভূত্থানের যারা যোদ্ধা, তাদেরকে বলছে—তারা জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে নাকি ধ্বংসপ্রাপ্ত করেছে! তাদেরকে গদিচ্যুত করেছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা চাই গুমের শিকার ব্যক্তিরা আইনের কাছে যেতে পারে আশ্রয় পায়, বিচার পায় সরাসরি। তখন করা হয়েছিল একটা গুম কমিশন। কয়েকজন ব্যক্তিকে কমিশনার বানিয়ে দেয়া হলো। সেই কমিশনের কার্যক্রম যা নির্ধারিত হলো—তাতে দেখা গেল, যিনি ঘুমের শিকার হয়েছেন তিনি সরাসরি আদালতে যেতে পারছেন না। এখন আইসিটি অ্যাক্টের মধ্যে যে বিধানটা আছে তা হলো—ওয়াইড স্প্রেড সিস্টেমেটিক এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স-এর জন্য, আইসিটি কোর্টে যাওয়া যাবে। তার সাজা যাবজ্জীবন, মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত আছে। আমি নিজেও একটি মামলার বাদী হয়েছি। তদন্ত এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।’