দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলা ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার অংশ আধুনিকায়ন করা হবে। এ কাজে তিনটি বড় সেতু ও ১৬৮ মিটার প্রায় ৪০টি কালভার্ট নির্মাণসহ সড়কের প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করা হবে। ২০২৬-২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমেটেড (ঘউঊ) দায়িত্ব পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন দুই উপজেলার বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে হাঁটুসমান কাদা-পানির সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কটি উন্নত হলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, এই সড়কটি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বর্ষা এলেই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। কৃষকরা দ্রুত তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন এবং চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজমত বলেন, সড়কটি ভালো হলে শুধু যাতায়াত নয়, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আমরা দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজটি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছি। বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কটি দুই উপজেলার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়ন, তিনটি বড় আরসিসি সেতু ও ১৬৮ মিটার কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্রুত কাজ শুরু করবো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। সড়কটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির মধ্যে নিরাপদ ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
