জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকবে উল্লেখ করে দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমাদের হয়তো চোখ তুলে নেয়া হবে, রক্তাক্ত করা হবে, তবুও আমরা ছাড় দেবো না। মানুষ আমাদের এখনো একটি কারণে পছন্দ করে-আমরা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করি না। শনিবার কুমিল্লা মহানগর, কুমিল্লা দক্ষিণ ও উত্তর জেলা এনসিপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার ১৮০ দিনও পূর্ণ হয়নি, এরই মধ্যে মানুষ দলটিকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে এনসিপি’র নেতা তৈরি করতে পারলে এক বছর পর বাংলাদেশের মানুষ আর বিএনপির কথা চিন্তা করবে না। বিএনপি’র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে এই মুহূর্তে আমরা চাঁদাবাজ বলতে চাই না। তবে তাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি করলে আমরা চাঁদাবাজ বলবো, জমি দখল করলে দখলবাজ বলবো। ছাত্রদল-যুবদলকে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা করলে তাদের মাদক ব্যবসায়ী বলবো।
এনসিপি’র এই নেতা বলেন, তাদের কাজের মাধ্যমে আমরা দেখছি, বিএনপি কীভাবে ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখনই তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এনসিপি আলাদাভাবে দেখে। আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ২০০৯ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। বিএনপি’র সঙ্গে এনসিপি’র রাজনৈতিক পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে সংসদীয় রাজনীতিতে দিনের বেলায় বিরোধিতা এবং রাতে নেগোসিয়েশনের রাজনীতি হয়েছে। এমনকি সম্পর্ক ও টাকা ভাগাভাগি নিয়েও নেগোসিয়েশন হয়েছে। এ ধরনের বিরোধী দলের রাজনীতি এনসিপি করবে না। করলে এনসিপি’র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থাকবে না। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক মো. সিরাজুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপি কুমিল্লা উত্তর জেলার সদস্য সচিব রবিউল মনির চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব সৈয়দ আহসান টিটু এবং মহানগরের সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপি’র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ এবং এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার।
সভায় কুমিল্লা উত্তর জেলা এনসিপি’র আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সরকার ও সদস্য সচিব রবিউল মনির চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা এনসিপি’র আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ও সদস্য সচিব সৈয়দ আহসান টিটু এবং কুমিল্লা মহানগর এনসিপি’র আহ্বায়ক মো. সিরাজুল হক ও সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ অনিক, জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক মোস্তফা জিহান ও সদস্য সচিব মাহবুব মজুমদার এবং জাতীয় যুবশক্তি কুমিল্লা জেলার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক কামরুল হাসান কিবরিয়া উপস্থিত ছিলেন।
