ঘেরের পাড় জুড়ে সবুজের সমারোহ ভাঙা সড়কে দুর্ভোগ

ফন্ট সাইজ:

যশোরের অভয়নগরে ঘেরের পাড় জুড়ে দেশীয় জাতের খিরা, শসা, বরবটি ও শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজে ছেয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘেরের পাড়। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও দীর্ঘদিনের বেহাল সড়কের কারণে উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সরজমিন উপজেলার বিভিন্ন সবজির হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই কৃষকরা মণে মণে খিরাইসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে বাজারে আসছেন। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সবজি এসব হাট থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। উপজেলার হিদিয়া, বর্ণী, মালাধারা, দিঘিরপাড়, চাকই, নওয়াপাড়া, বাগদাহ, চেংগুটিয়া, বাছিরঘাট ও প্রেমবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করা হয়।

শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মালাধারা বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আমজাদ আলী বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন এ বাজারে ৮ থেকে ১০ ট্রাক দেশীয় জাতের খিরাই বিক্রি হয়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি পাইকার খিরাই কিনতে আসেন। টানা চার থেকে পাঁচ মাস এ বাজারে প্রতিদিন বড় পরিসরে খিরাই বেচাকেনা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগার না থাকায় দ্রুত কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ সড়ক। সরু ও ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে সবজি পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. লাভলী খাতুন বলেন, চলতি মৌসুমে সময়োপযোগী পরিচর্যার কারণে ঘেরের পাড়ে সবজির ফলন খুবই ভালো হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না।
সড়ক ব্যবস্থা উন্নত হলে দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের আয়ও বাড়বে।