কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তমঞ্চ দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। ব্যবহার না হওয়ায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরই মধ্যে ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে, চুরি হয়েছে পানির মোটর এবং মুক্তমঞ্চের এসএস পাইপ খুলে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর সেখানে বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন, মুক্তমঞ্চ ও প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৫০০ আসনবিশিষ্ট মুক্তমঞ্চ নির্মাণের কথাও তখন জানানো হয়েছিল। ২০২৩ সালের ২৩শে মার্চ নবাবগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তমঞ্চ উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় পুরো কমপ্লেক্সটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
কয়েকজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি জানান, নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্যচর্চা, সাহিত্যসভা, সংগীত ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হলে প্রতিষ্ঠানটি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে অনাকাঙিক্ষত কর্মকাণ্ডও বন্ধ করা সম্ভব হবে। তাদের অভিযোগ, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যকর কমিটি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আল মামুন বলেন, একটি অঞ্চলের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে শিল্পকলা একাডেমির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবাবগঞ্জের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতি তুলে ধরতে নবনির্মিত শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তমঞ্চ দ্রুত সচল করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংস্কৃতিচর্চাকে বেগবান করতে সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালনা কমিটি গঠন করা জরুরি। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিকে সচল করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালককে এ বিষয়ে কয়েকবার অবহিত করা হয়েছে। সেখানে যে কেয়ারটেকার ছিলেন, তাকে পুনরায় বহাল করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবনটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটি গঠনের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর আবার সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চার কেন্দ্র হিসেবে নতুন আঙ্গিকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করবে।
