শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার উত্তর সীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে আছে ছোট-বড় পাহাড়, টিলা ও বনভূমি। স্থানীয়ভাবে এসব পাহাড়ি এলাকা ‘গারো পাহাড়’ নামে পরিচিত। কিন্তু ছোট ছোট এসব পাহাড়ের নাম গারো পাহাড় কেন এ প্রশ্ন অনেকেরই। ভূগোল ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ‘গারো পাহাড়’ নামটির সঙ্গে গারো জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক বসতি ও পরিচয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান আবাসভূমি। বৃহত্তর এই পাহাড়ি অঞ্চলই ‘গারো পাহাড়’ বা ‘এধৎড় ঐরষষং্থ নামে পরিচিত। গারো পাহাড়ের মূল বিস্তৃতি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। এর দক্ষিণ প্রান্ত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার কাছাকাছি এসে মিলেছে। ফলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী পাহাড়-টিলাগুলো বৃহত্তর গারো পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের বা পাদদেশীয় পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। শেরপুরের সীমান্ত এলাকায় পাহাড়গুলো খুব বেশি উঁচু নয়।
কোথাও ছোট টিলা, কোথাও আবার অপেক্ষাকৃত উঁচু পাহাড়ের ঢাল। পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে বনভূমি, কৃষিজমি ও জনবসতি। দীর্ঘদিন ধরে এসব পাহাড় ও বনভূমির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি গারো পাহাড় অঞ্চল জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়, টিলা, শালবন, ছড়া ও ঝরনা মিলে এখানে তৈরি হয়েছে বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। নানা ধরনের গাছপালা ও বনজ সম্পদও এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের অংশ। গারো পাহাড়ের সঙ্গে গারো জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও রয়েছে দীর্ঘ সম্পর্ক।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এই পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতি তাই শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়, মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যেরও অংশ। তবে শেরপুরের প্রতিটি ছোট পাহাড়কে আলাদা কোনো ‘গারো পাহাড়’ হিসেবে না দেখে ভারতের মেঘালয়কেন্দ্রিক বৃহত্তর গারো পাহাড়শ্রেণির দক্ষিণ প্রান্তের পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতির অংশ হিসেবে দেখা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই পাহাড়ি অঞ্চল শেরপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিচয় বহন করছে।
