ক্ষোভ ঝাড়লেন রোগীরা

হবিগঞ্জ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান

ক্ষোভ ঝাড়লেন রোগীরা

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি। শনিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড, ডিসপেনসারি ও সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন তিনি। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ শোনেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সেবার মান দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় এক শিশু রোগীর অভিভাবকসহ অন্য রোগী ও স্বজনরাও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনা হলে দ্রুত চিকিৎসক দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ডিসপেনসারি পরিদর্শনে গিয়ে ফার্মাসিস্ট রিগান হোসেনকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পান মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে হবিগঞ্জ থেকে অন্য জেলায় বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া একজন চিকিৎসককেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালে করোনা মহামারির সময় প্রস্তুত করা ১০ শয্যার আইসিইউ চালুর উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সময় চিকিৎসাধীন দুই হাম রোগীর অবস্থা দেখে তাদের প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে এম্বুলেন্সে সিলেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার চাপ কমবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব কেন্দ্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণ, রক্ত পরীক্ষা ও রক্তচাপসহ বিভিন্ন সেবা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগের বিষয়টি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হলে তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জায়গা চূড়ান্ত হলে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস, জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার এবং হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারীসহ হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।