দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিরিয়াল ভঙ্গ করে টিকিট নেয়ার প্রতিবাদ করায় দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক তানিমকে মারধর করেছেন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আওয়াল মেম্বার ও পৌরসভা শ্রমিক দলের সভাপতি রাজ্জাক। শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন নারী জানান, একজন পুরুষ নারীদের লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে টিকিট নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্য তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে আওয়াল মেম্বার ও রাজ্জাকের সঙ্গে ওই আনসার সদস্যের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক তানিম বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সাংবাদিক তানিম প্রতিবাদ করায় আওয়াল মেম্বার ও রাজ্জাক তার সঙ্গে বাক্?বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
হঠাৎ তারা সাংবাদিক তানিম ও দায়িত্বরত আনসার সদস্যকে মারধর করেন। এ সময় তারা বলেন, কোথাকার সাংবাদিক তুই, তুই প্রতিবাদ করার কে? আমরা বিএনপির নেতা, আমি শ্রমিক দলের সভাপতি। এ সময় সাংবাদিক তানিমের স্ত্রী ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার দিকেও তেড়ে যান তারা। তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শী নারীরা। ঘটনার সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযুক্ত আওয়াল মেম্বার ও রাজ্জাকও এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার বলেন, ‘একজন পুরুষ নেতা কীভাবে নারীদের লাইনে গিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করে টিকিট কাটার চেষ্টা করেন, এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক ও আনসার সদস্যকে মারধর করা আরও গুরুতর অপরাধ। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং এ ধরনের নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।’
