জাল ফেললেই ভাগ্য বদলায় না

জাল ফেললেই ভাগ্য বদলায় না

ফন্ট সাইজ:

নদীর বুকে জীবন বাজি রেখে মাছ ধরেন জেলেরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই নৌকা নিয়ে ছুটে চলেন পানির বুকে। ছুটে চলেন, ফেলেন জাল কিন্তু বদলায় না ভাগ্য, সময় যায় দিন যায় দারিদ্র্যই কাটছে চিলমারী জেলেদের দিন। কখনো উত্তাল টেউ, কখনো বৈরী আবহাওয়া, আছে মাছের আকাল, সবকিছু মোকাবিলা করেই জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাদের। রাত কিংবা দিন ছুটে চলে নৌকা নিয়ে মাছের খোঁজে। দিন শেষে বা রাত কাটিয়ে মাছ ধরা আর বিক্রি করেই সংসার চালানো এবং পরিবার নিয়ে সুখে দিন কাটানো জেলেদের এখন দুর্দিন। টাকার অভাবে নৌকা আবার কখনো ছিঁড়ে যাওয়া জাল মেরামত করতে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধিতে জেলেরা আজ অসহায়। সরকারি সহায়তা, সঙ্গে ঋণ পেলে তারা আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশাবাদী জেলেরা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী নদী বেষ্টিত এলাকা। শত শত পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। জলবায়ুর পরিবর্তন এবং নদীর নাব্যসহ বিভিন্ন কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ছাড়াও নানা কারণে দেখা দিয়ছে মাছের আকাল। আবার থাকে নিষেধাজ্ঞা। যদিও ব্রহ্মপুত্র থেকে মাছ ধরে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শত শত জেলে পরিবার নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কালের পরিবর্তনে অর্থের অভাবে আজ জেলেরা নিরুপায়। সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় তারা এখন দিশাহারা। উপজেলার শত শত জেলে পরিবার জীবনের তাগিদে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে মহাজনদের নিকট ঋণ নিয়ে পড়েছে বিপাকে। সারাদিন ও সারারাত মাছ ধরে বিক্রি করে সুদের টাকা পরিষদ করতেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হাতে ফিরতে হয় বাড়িতে। দিন শেষে মলিন মুখ আর শূন্য হাতে ফিরতে হয় ঘরে। খেয়ে না খেয়ে রাত পাড়ি দিয়ে আবারো বেরিয়ে পড়ে মাছের খোঁজে মহাজনের সুদের টাকা পরিষদ করতে। জেলেরা জানান, বছর শেষে নৌকা আর জাল মেরামতের জন্য মহাজনদের নিকট থেকে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে ধার নিয়ে চলতে হয়। সারাদিন শেষে মাছ বিক্রির টাকা সুদেই খেয়ে নেয়।

আবার মাছের দেখা না পেলে ধারদেনা করে সুদকে থামাতে হয়। তাই বেশির ভাগ সময় শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হয়। এদিকে দিন দিন মাছের আকাল দেখা দেয়ার সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলে পরিবাররা পড়েছে বড় দুশ্চিন্তায়। মাছের আকাল সঙ্গে বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞা, কুলাতে না পেরে জীবন বাঁচাতে অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে বিভিন্ন কাজের সন্ধানে পাড়ি জমাচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে। জেলে কমিউনিটি নেতারা বলেন, যদি জেলেদের জন্য সরকার বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে মহাজনদের কাছে জিম্মি থাকতে হবে না এবং জেলেদের সুখের দিন আসবে। জেলেরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্বীকার করে উপজেলা মৎস্য অফিসার অতিঃ দাঃ মো. এমদাদুল হক বলেন, বর্তমান চিলমারীতে কার্ডধারী জেলে পরিবার রয়েছে ১ হাজার ৪৫২ জন, জেলেদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তবে জেলের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা হলে তাদের উপকার হবে।