দেশের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে চাল ও গম মজুত নিয়ে যেকোনো ধরনের নয়ছয়, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্য গুদামকেন্দ্রিক কোনো সিন্ডিকেট বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। প্রয়োজনে এসব অপকর্মের পেছনে থাকা নেপথ্য মদতদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত মানিকগঞ্জের ঘিওর সরকারি খাদ্য গুদামে আকস্মিক মজুত যাচাই করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল ও গমের ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশের খাদ্য গুদামগুলোতে আরও বেশি কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ?ঘিওরের ঘটনা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ঘিওরের ঘটনাকে আমরা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে দেখছি না। দেশের অন্যান্য খাদ্য গুদামেও একই ধরনের অনিয়ম আছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘিওরের মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই, সরকারি খাদ্য গুদামে নয়ছয় করার দিন শেষ।
?কাগজে-কলমে হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুতের গরমিল কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি খাদ্যশস্য জনগণের সম্পদ। এই সম্পদের এক কেজিও অপচয় বা আত্মসাতের সুযোগ নেই। তিনি জানান, কোনো গুদামে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা ‘ছোটখাটো ভুল’ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। অনিয়মকারীর পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে সরাসরি আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ?খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করবে। শুধু খাদ্য সংগ্রহ নয়, তার সঠিক সংরক্ষণ ও প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। খাদ্য গুদামগুলোকে জনবান্ধব ও সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি খাদ্য গুদামের কার্যক্রম ডিজিটাল ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে আনা হবে বলে জানান তিনি।
