৪ জনই অসুস্থ, অসহায় পরিবারটি ঘোর অন্ধকারে

৪ জনই অসুস্থ, অসহায় পরিবারটি ঘোর অন্ধকারে

ফন্ট সাইজ:

একটি ঘর। সেই ঘরেই অসুস্থ চারজন মানুষ। কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত, কেউ স্ট্রোকে পঙ্গু, আবার কেউ বয়সের ভারে শয্যাশায়ী। একসময় যে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতো, এখন সেই পরিবারে নেমে এসেছে অসহায়ত্বের অন্ধকার। চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে পরিবারটির। এমন করুণ পরিস্থিতি ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নবীনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের (৪৫) পরিবারের। তিনি পেশায় ছিলেন মাইক্রোবাস চালক। স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও মা-বাবাকে নিয়ে ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু একের পর এক অসুস্থতার ছোবলে পুরো পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। হেলাল উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় আমার শারীরিক নানা জটিলতা।

একসময় পুরো পেট ফুলে যায়, যার জন্য কোনো খাবারই খেতে পারতাম না। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান, আমার পেটে বড় ধরনের টিউমার হয়েছে। এ জন্য ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। এরপর ২০২৪ সালের শেষের দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেলে (পিজি) যাই। সেখানে পুনরায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, আমার পেটে বড় ধরনের টিউমার রয়েছে এবং সেই টিউমারের কারণে খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তারপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে নিজের জমানো টাকা ও ধারদেনা করে পিজি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাই। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার পেট থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কেজি ওজনের একটি টিউমার বের করা হয়। তিনি আরও জানান, এরপর চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে নিজের ঘরভিটা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দিই।

পাশাপাশি মানুষের সহযোগিতা এবং ধারদেনার টাকায় শুরু করি ক্যান্সারের চিকিৎসা। এ পর্যন্ত আমার চিকিৎসায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এরপর কোনো উপায় না পেয়ে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে যখন ঘরভিটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই তখন একজন মানবিক মানুষ আমার পাশে দাঁড়ান। তিনি আর্থিকভাবে অনেকটা সহযোগিতা করেছেন। তবে বারোটি থেরাপি নেয়ার কথা থাকলেও নয়টি থেরাপি নেয়ার পরই নতুন বিপদ নেমে আসে আমার পরিবারে। আমার স্ত্রী ময়না বেগম (৪০) ব্রেন স্ট্রোক করেন। এতে তার ডান পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর একে একে স্ট্রোক করেন আমার বাবা সাহেব আলী (৭৫) ও মা হামেলা খাতুন (৭০)। বর্তমানে আমার স্ত্রী ময়না, বাবা সাহেব আলী ও মা হামেলা খাতুনসহ পরিবারের সবাই অসুস্থ। মা হামেলা খাতুন এতটাই অসুস্থ যে, অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।

আর বাবা সাহেব আলীর হাত-পা অবশ হয়ে তিনি ঘরেই পড়ে থাকেন। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, ওই পরিবারের পক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে ও তার স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এ ছাড়া হেলালের বাবা-মা বর্তমানে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন।