আইন পেশায় সফল হতে অর্থের পেছনে না ছুটতে বললেন মন্ত্রী

আইন পেশায় সফল হতে অর্থের পেছনে না ছুটতে বললেন মন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

আইনজীবী হিসেবে সফল হতে অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বলেছেন, দুর্নীতি কিংবা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গতকাল রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের স্নাতকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শুধু অর্থের পেছনে ছুটলে হবে না। পেশাগত দক্ষতা অর্জনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যারা আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আইনমন্ত্রী হয়ে ঠকে গেছি। আইনজীবী হিসেবে কোর্টে গেলে প্রতিদিন কিছু ইনকাম থাকতো। এখন পুরো মাস ভূতের মতো খেটে কিছু টাকা পাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৮ হাজার আইনজীবী থাকলেও তাদের মধ্যে কতোজন ভালো আইনজীবী, তা নির্ধারণের কোনো উপায় নেই। এটিই তিক্ত বাস্তবতা।’ দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনজীবীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তবে বর্তমান সরকার নতুন ও পেশাজীবী আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে।’

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকতে পারে। এজন্য হতাশ হলে চলবে না। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি এবং পারিশ্রমিকও বাড়বে। পেশাজীবনের শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে একজন দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার চেষ্টা করার আহ্বান জানান তিনি।

নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি পড়াশোনা করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে ভালো খসড়া প্রণয়নসহ পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত অধ্যয়নের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকি খলিলি। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।