কক্সবাজারে হোটেলের বারে মদ্যপানের সময় বাকবিতণ্ডার জেরে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক খুন হয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রথমে খুন হন রাশেদুল হক রাশেদ (২৮)। রাশেদের হত্যাকারী সন্দেহে পরে দফায় দফায় মারধরে খুন হয়েছেন সালমান সোলাইমান নামের আরও এক যুবক। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলাস্থ হোটেল রেনেসাঁর বারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নুনিয়ারছড়া এলাকার মৃত জয়নাল কোম্পানির ছেলে। বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন তিনি। অপরজনের বাড়ি শহরের বিজিবি ক্যাম্পের চৌধুরী পাড়া এলাকায়। তিনি স্থানীয় আবুল কালামের পুত্র।
পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদসহ ৭-৮ জন হোটেলটির বারে যান। তাদের মধ্যে রাশেদ ও সাইফুল নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যরা বিজিবি ক্যাম্প, পাহাড়তলী ও টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই একসঙ্গে বসে মদ্যপান করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে বাক?বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় মদের বোতল ও কাঁচের গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে রাশেদ মুমূর্ষু হয়ে পড়েন। ঘটনার আকস্মিকতায় বারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাশেদের সঙ্গে থাকা সাইফুল ফোন করে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন হোটেলের সামনে জড়ো হলে নিরাপত্তার কারণে হোটেলের ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ফটক খুলে দিলে সবাই বেরিয়ে আসেন। এ সময় আহত রাশেদ বাইরে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাশেদকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে স্থানীয় লোকজন বারের সঙ্গীদের একজন সালমান সোলাইমানকে প্রথম দফায় বারের সামনে পিটিয়ে আহত করে।
এরপর তারা সালমানকে পেটাতে পেটাতে ফিশারিঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান সালমান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় বাকবিতণ্ডার সময় ঝগড়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু খবর পেয়ে পরে আসা লোকজন সালমান সোলাইমানকে রাশেদের খুনি সন্দেহে মারধর করার কারণে তার মৃত্যু হয়। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্?ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
সন্দেহভাজন একজনকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
