চারদিকে বিস্তীর্ণ হাওর। যেদিকে চোখ যায় পানি আর পানি। বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা, শুষ্ক মৌসুমে কাদামাটির দুর্গম পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। এমন প্রত্যন্ত জনপদে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ই কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষার একমাত্র ভরসা। কিন্তু এসএসসি পাসের পরই থেমে যায় অনেকের উচ্চশিক্ষার পথ। নিকটবর্তী কোনো কলেজ না থাকায় বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মাধ্যমিকের পরই ঝরে পড়ছে। তাই বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সুরমা ইউনিয়নের কানলার হাওরের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
এসএসসি পাসের পর উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হতে তাদের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের কলেজে যেতে হয়। তবে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া আক্তার বলেন, আমাদের সবারই স্বপ্ন এসএসসি’র পর কলেজে পড়ার। কিন্তু আশপাশে কোনো কলেজ না থাকায় সেই স্বপ্ন অনেকেরই ভেঙে যায়। দূরের কলেজে যাতায়াতের কষ্ট, খরচ ও নিরাপত্তার কারণে অনেক পরিবার ছেলে-মেয়েদের, বিশেষ করে মেয়েদের, আর পড়তে পাঠাতে চায় না। রিয়ার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীরা জানান, নিকটবর্তী একটি কলেজের অভাবে উচ্চশিক্ষা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হলে হাওরের শত শত শিক্ষার্থীর উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ভালো ফলাফল হলেও কলেজ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি’র পর ঝরে পড়ে। বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত করা হলে প্রত্যন্ত হাওরের ছেলে-মেয়েরা নিজ এলাকায় থেকেই এইচএসসি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পাবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টিতে উচ্চ মাধ্যমিক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। কলেজে উন্নীত করা গেলে বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমবে। তিনি এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
