দরজার ওপাশে পুলিশ। ভেতরে ফলস ছাদের মধ্যে অস্ত্র হাতে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী। পরপর ৬ রাউন্ড গুলি। তারপর ২০ মিনিট ধরে দর-কষাকষি, কসম, আশ্বাস।
শেষে ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার’ বলে অস্ত্র সমর্পণ। এভাবেই বুধবার ভোরে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় গ্রেপ্তার হলেন চট্টগ্রাম নগরীর আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে গলা কাটা মোবারক।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে শাহনগরের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘরে ঢুকতেই ফলস ছাদ থেকে গুলি ছুড়তে থাকেন মোবারক। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। ওই গুলিতে এএসপি তারেক আজিজসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। গুলি থামার পর শুরু হয় অন্য লড়াই। বাঁচানোর লড়াই। অভিযানের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা দরজার বাইরে থেকে মোবারককে বোঝাচ্ছেন।
চাঞ্চল্যকর অভিযানে পুলিশ ও মোবারকের কথোপকথনে শোনা যায়, পুলিশ বলছে তাকে, ‘জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য আসছি।’ মোবারক তখন বলে, ‘অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।’ পুলিশ এ সময় বলে, ‘মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোর বাঁচার সুযোগ নেই। বের হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।’
মোবারক তবু রাজি হন না। বলেন, ‘অস্ত্র ফেলব না।’ একপর্যায়ে ওসি পরিচয় দিয়ে এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘অস্ত্র দিলে কেউ মারবে না তোকে। কেন মারব? আমি ওসি বলছি, অস্ত্রটা দিয়ে দে।’ মোবারক তখন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান। বলেন, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ পুলিশ তাকে বারবার আশ্বস্ত করে বলে, ‘কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। এই মুরব্বির কাছে অস্ত্র দে, চিন্তা থাকবে না। আমাদের কাছে চায়না রাইফেল, এসএমজি সবকিছুই আছে। মোবারক, ইমন গ্রেপ্তার হয়েছে। ইমনের চেয়ে তুই বড় সন্ত্রাসী না।’
মোবারক বলে উঠে তখন, ‘স্যার, আমি একটু পরে বলব স্যার। একটা অনুরোধ...আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ পুলিশ আবারও বলে, ‘কসম করলাম তো। খোদার কসম, কিছু করব না। তোর কিচ্ছু হবে না।’
অবশেষে বরফ গলে। মোবারকের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’ পুলিশ তখন ঘরে থাকা এক বৃদ্ধকে বলে, ‘মুরুব্বি, অস্ত্রটা নিয়ে আসেন।’ বৃদ্ধের হাত দিয়েই ফলস ছাদ থেকে নামে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি। সঙ্গে গ্রেফতার হয় মোবারকের আরও ৩ সহযোগী।
কে এই মোবারক: পুলিশ বলছে, মোবারক নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ফটিকছড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, সে প্রথমে গুলি চালিয়েছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি তাকে জীবিত গ্রেপ্তার করতে। শেষ পর্যন্ত সেটাই সম্ভব হয়েছে।
