লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ফুটপাথ দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোর টাঙানো ছাতার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, দিনের ব্যস্ত সময়ে ফুটপাথের দোকানগুলোর ছাতা ও ভিড়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মূল্যবানসামগ্রী (স্বর্ণালংকার) হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফুটপাথ দখল করে সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকানের কারণে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে ভিড় সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই ভিড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে চুরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সমাধান নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ফুটপাথ দখলের বিষয়টি নতুন নয়। বিগত দিনের একাধিক প্রতিবেদনে বাজারের প্রধান সড়কের দু’পাশে ফুটপাথ দখল করে অস্থায়ী দোকান ও স্টল বসানোর কারণে জনদুর্ভোগের কথা উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রাতে ও ব্যস্ত সময়ে পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে ফুটপাথের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফুটপাথের দোকানের উপরে টাঙানো বড় বড় ছাতাগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা চন্দ্রগঞ্জ বাজারের নিরাপত্তা জোরদার এবং কথিত চোর চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনায়েত উল্যা জানান, আমরা ফুটপাথের ব্যাবসায়ীদের ছাতা সরিয়ে ফেলতে বলেছি। না সরালে আমরা পরবর্তীতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রব বলেন, এ বিষয়ে আপনারা ইউএনও’কে জানান। তবে চুরির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের ছাতা টাঙ্গানোর কারণে চুরি, ছিনতাই বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
