নেছারাবাদে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টে পুরনো সেতু ভেঙে পাওয়া রড ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লাভলু গাজীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাক্কলন অনুযায়ী নতুন রড, সিমেন্ট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে পুরনো সেতুর রড দিয়ে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরজমিন জানা গেছে, উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ব্যাসকাঠী গ্রামে ডাক্তার সৌরভ সূতারের বাড়ির কাছে একটি খালের ওপর কালভার্টটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সহায়তায় গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে কালভার্টটি নির্মাণের কথা রয়েছে। টেন্ডারে কাজটি মেসার্স শাপলা এন্টারপ্রাইজের নামে দেখানো হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্যানেল চেয়ারম্যান লাভলু গাজী নিজেই কাজটি পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্ট নির্মাণে নতুন রড ব্যবহারের কথা থাকলেও এলজিইডি’র নির্মাণাধীন পুরোনো সেতু ভেঙে পাওয়া রড এনে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু এই কালভার্ট নয়, এর আগেও একইভাবে পুরোনো সেতুর রড ব্যবহার করে আরও কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিষদের সাবেক সদস্য মো. নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এগারগ্রাম স্কুলের সামনে পুরোনো ভাঙা সেতুর রড ব্যবহার করে এর আগে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। পশ্চিম পাটিকেল বাড়িতেও একই ধরনের পুরোনো রড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এবার সৌরভ ডাক্তারের বাড়ির কাছের কালভার্টেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক কলেজছাত্রের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে সেই লাইসেন্সের মাধ্যমে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান লাভলু গাজী। এদিকে মেসার্স শাপলা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মেহেদী গাজী জানান, তিনি পশ্চিম সোগাগদল কলেজের শিক্ষার্থী। তার নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। তবে বর্তমানে ওই লাইসেন্সে কোনো কাজ চলছে না বলেও দাবি করেন তিনি। লাইসেন্সটি লাভলু গাজী করে দিয়েছেন এবং ঠিকাদারি কাজ সম্পর্কে তিনি তেমন কিছু জানেন না বলেও জানান মেহেদী।
গুয়ারেখা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাইনুল হক রাসেল বলেন, পুরোনো সেতুর রড নিয়ে নতুন কালভার্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে নতুন রড ব্যবহারের কথা, সেখানে পুরোনো রড কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা তার বোধগম্য নয়। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লাভলু গাজী বলেন, কালভার্টের প্রাক্কলনে তিন ইঞ্চি রড ধরা হয়েছে। তিনি পুরোনো সেতুর পাঁচ ইঞ্চি রড দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তার দাবি, ভালো কাজের জন্যই পুরোনো রড ব্যবহার করা হয়েছে। মেসার্স শাপলা এন্টারপ্রাইজের মেহেদী হাসান কাজটি করছেন এবং পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি শুধু কাজটি দেখভাল করছেন বলেও জানান। নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। কার অনুমতিতে পুরোনো রড ব্যবহার করা হচ্ছে, তা তদন্ত করে জানা হবে।
